নিউইয়র্ক ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছর ফিটনেসবিহীন থাকলেও গাড়ি বাতিল নয়

  • আপডেটের সময় : ১২:১৬:৫১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপিং বা বাতিল করার ক্ষেত্রে সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে সরকার। ফলে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো গাড়ি এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই সেটি স্ক্র্যাপযোগ্য  হবে না। পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই তা স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। নতুন এই বিধান নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আগের নীতিমালা রহিত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ দ্রুত করার বিধান রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন নীতিমালায় কিছু বিষয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলে মোটরযান স্ক্র্যাপিং করার সুযোগ ছিল। এখন তা পাঁচ বছর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন নীতিমালায় নিলামব্যবস্থার পাশাপাশি স্ক্র্যাপিংয়ের  বিকল্পব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আগে শুধু নির্ধারিত ভেন্ডরের মাধ্যমে স্ক্র্যাপিংয়ের  সুযোগ থাকলেও ভেন্ডর না পাওয়া গেলে এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে যুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি বিআরটিএ চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও  স্ক্র্যাপিং  কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

 স্ক্র্যাপিংয়ে সময় কমল:ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময় বাড়লেও স্ক্যাপিং  প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপে সময় কমানো হয়েছে। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ি আটক করলে মালিককে নোটিশ দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। স্ক্র্যাপিংয়ের সময়ও ৩০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। স্ক্র্যাপিং শেষ হওয়ার পর সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে সাত দিন করা হয়েছে।

কোন গাড়ি স্ক্র্যাপ হবে:শুধু দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়িই নয়—ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত, চলাচলের অযোগ্য, দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে মেরামত-অযোগ্য, অননুমোদিতভাবে উত্পাদিত বা পরিবর্তিত এবং নির্ধারিত মাত্রার বেশি দূষণকারী গাড়িও স্ক্র্যাপ  আওতায় আসবে। স্ক্র্যাপিংয়ের সময় গাড়ির চেসিসের পাশাপাশি ইঞ্জিন নম্বরও এমনভাবে নষ্ট করতে হবে, যাতে সেটি অন্য কোনো গাড়িতে ব্যবহার করা না যায়। স্ক্র্যাপিং  শেষে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করে মালিককে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি:বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হলে পরিবহন মালিকদের দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, এতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলাচলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, নতুন নীতিমালার সরকারি ব্যাখ্যা হলো—সময় বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্রাপিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। ভেন্ডর না থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিআরটিএকে কাজে লাগানোর সুযোগ, নিলামব্যবস্থা এবং দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পাঁচ বছর ফিটনেসবিহীন থাকলেও গাড়ি বাতিল নয়

আপডেটের সময় : ১২:১৬:৫১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপিং বা বাতিল করার ক্ষেত্রে সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে সরকার। ফলে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো গাড়ি এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই সেটি স্ক্র্যাপযোগ্য  হবে না। পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই তা স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। নতুন এই বিধান নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আগের নীতিমালা রহিত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ দ্রুত করার বিধান রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন নীতিমালায় কিছু বিষয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলে মোটরযান স্ক্র্যাপিং করার সুযোগ ছিল। এখন তা পাঁচ বছর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন নীতিমালায় নিলামব্যবস্থার পাশাপাশি স্ক্র্যাপিংয়ের  বিকল্পব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আগে শুধু নির্ধারিত ভেন্ডরের মাধ্যমে স্ক্র্যাপিংয়ের  সুযোগ থাকলেও ভেন্ডর না পাওয়া গেলে এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে যুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি বিআরটিএ চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও  স্ক্র্যাপিং  কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

 স্ক্র্যাপিংয়ে সময় কমল:ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময় বাড়লেও স্ক্যাপিং  প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপে সময় কমানো হয়েছে। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ি আটক করলে মালিককে নোটিশ দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। স্ক্র্যাপিংয়ের সময়ও ৩০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। স্ক্র্যাপিং শেষ হওয়ার পর সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে সাত দিন করা হয়েছে।

কোন গাড়ি স্ক্র্যাপ হবে:শুধু দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়িই নয়—ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত, চলাচলের অযোগ্য, দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে মেরামত-অযোগ্য, অননুমোদিতভাবে উত্পাদিত বা পরিবর্তিত এবং নির্ধারিত মাত্রার বেশি দূষণকারী গাড়িও স্ক্র্যাপ  আওতায় আসবে। স্ক্র্যাপিংয়ের সময় গাড়ির চেসিসের পাশাপাশি ইঞ্জিন নম্বরও এমনভাবে নষ্ট করতে হবে, যাতে সেটি অন্য কোনো গাড়িতে ব্যবহার করা না যায়। স্ক্র্যাপিং  শেষে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করে মালিককে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি:বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হলে পরিবহন মালিকদের দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, এতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলাচলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, নতুন নীতিমালার সরকারি ব্যাখ্যা হলো—সময় বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্রাপিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। ভেন্ডর না থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিআরটিএকে কাজে লাগানোর সুযোগ, নিলামব্যবস্থা এবং দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card