বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) এক দিনেই তার সম্পদ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মূলত মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় শুক্রবার এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান।
শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় মাস্ক এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।
বারবার ট্রিলিয়নিয়ারের সীমায় মাস্ক
স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত জুনে মাস্কের সম্পদ দ্রুত বেড়ে যায়। ওই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি আবার সেই অবস্থান হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার তাঁর সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।
এরপর ২৯ জুন মাস্ক আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে গেলে তিনি আবার সেই সীমার নিচে নেমে যান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে।
এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও আবার দ্রুত বাড়ছে।



















