নিউইয়র্ক ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর: পুতিন

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৫:৫০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিক্ষকতা পেশাকে শুধু পেশাদারত্বের বিষয় নয়, বরং এক মহান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, চরিত্র গঠনে সহায়তা করেন এবং তাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পুতিন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষক হওয়া মানে শুধু একটা পেশা নয়। এটি এক গভীর দায়িত্বপূর্ণ আহ্বান। এর জন্য প্রজ্ঞা, ধৈর্য আর শিশু-কিশোরদের প্রতি অবিরাম যত্নের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অনন্য প্রতিভা ও ভালো গুণগুলো বিকশিত করার সক্ষমতা লাগে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক যত্ন, অভিজ্ঞতা ও সংবেদনশীলতা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে সাহায্য করে। তাদের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পরবর্তী প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

পুতিন বলেন, তরুণ প্রজন্ম স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যাই হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, এক বৃহৎ ও ঐক্যবদ্ধ দেশের অংশ হিসেবে নিজেদের অনুভব করাটা জরুরি। শৈশব থেকেই তাদের বহুজাতিক রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং যে মূল্যবোধগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে একসঙ্গে বেঁধে রেখেছে, সেগুলোর গুরুত্ব বুঝতে শেখানো দরকার।

বিশেষ করে রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর হিসেবে ঘোষিত চলতি বছরে শিক্ষকদের এই দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি। ইতিহাসজুড়ে অভিন্ন মূল্যবোধ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে একই দৃষ্টিভঙ্গিই রাশিয়াকে নিজের পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আগের প্রজন্মের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য এবং সমসাময়িকদের অর্জন নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি প্রতিটি সাফল্য ও বিজয়ের পেছনে শিক্ষকদের অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুতিন জানান, চলতি বছর থেকে শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকতার দায়িত্বের প্রতি সমাজের উচ্চ সম্মান প্রতিফলিত হয়েছে এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পেশাগত উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এসব প্রতিযোগিতা শুধু মেধাবী শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেয় না, বরং উদ্ভাবনী ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর ফলে সামগ্রিক শিক্ষার মানও উন্নত হয়।

তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ চলবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও আরামদায়ক করে তোলা হবে। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সেরা ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সেগুলোর সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

পুতিন জোর দিয়ে বলেন, স্কুলে যত নতুন প্রযুক্তিই যোগ হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকবে শিক্ষক নিজেই। শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও নিরলস দৈনন্দিন কাজের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।‘আপনারাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, তাদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করেন এবং ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেন’ এ কথা বলে শেষ করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরানের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

০৫ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর: পুতিন

আপডেটের সময় : ১২:৫৫:৫০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিক্ষকতা পেশাকে শুধু পেশাদারত্বের বিষয় নয়, বরং এক মহান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, চরিত্র গঠনে সহায়তা করেন এবং তাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পুতিন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষক হওয়া মানে শুধু একটা পেশা নয়। এটি এক গভীর দায়িত্বপূর্ণ আহ্বান। এর জন্য প্রজ্ঞা, ধৈর্য আর শিশু-কিশোরদের প্রতি অবিরাম যত্নের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অনন্য প্রতিভা ও ভালো গুণগুলো বিকশিত করার সক্ষমতা লাগে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক যত্ন, অভিজ্ঞতা ও সংবেদনশীলতা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে সাহায্য করে। তাদের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পরবর্তী প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

পুতিন বলেন, তরুণ প্রজন্ম স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যাই হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, এক বৃহৎ ও ঐক্যবদ্ধ দেশের অংশ হিসেবে নিজেদের অনুভব করাটা জরুরি। শৈশব থেকেই তাদের বহুজাতিক রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং যে মূল্যবোধগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে একসঙ্গে বেঁধে রেখেছে, সেগুলোর গুরুত্ব বুঝতে শেখানো দরকার।

বিশেষ করে রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর হিসেবে ঘোষিত চলতি বছরে শিক্ষকদের এই দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি। ইতিহাসজুড়ে অভিন্ন মূল্যবোধ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে একই দৃষ্টিভঙ্গিই রাশিয়াকে নিজের পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আগের প্রজন্মের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য এবং সমসাময়িকদের অর্জন নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি প্রতিটি সাফল্য ও বিজয়ের পেছনে শিক্ষকদের অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুতিন জানান, চলতি বছর থেকে শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকতার দায়িত্বের প্রতি সমাজের উচ্চ সম্মান প্রতিফলিত হয়েছে এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পেশাগত উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এসব প্রতিযোগিতা শুধু মেধাবী শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেয় না, বরং উদ্ভাবনী ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর ফলে সামগ্রিক শিক্ষার মানও উন্নত হয়।

তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ চলবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও আরামদায়ক করে তোলা হবে। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সেরা ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সেগুলোর সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

পুতিন জোর দিয়ে বলেন, স্কুলে যত নতুন প্রযুক্তিই যোগ হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকবে শিক্ষক নিজেই। শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও নিরলস দৈনন্দিন কাজের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান।‘আপনারাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, তাদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করেন এবং ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেন’ এ কথা বলে শেষ করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card