নিউইয়র্ক ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরির নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না: ডেপুটি স্পিকার

  • আপডেটের সময় : ০১:২০:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী করতে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজির) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত প্রায় দেড় দশকে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র বহাল ছিল না, তবে বর্তমানে সংসদে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে এবং বিরোধী দল জাতীয় সংসদে তাদের যথাযথ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে, যা সংসদীয় রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

এসময় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে মডেল হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউশনগুলোকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে। সেইসঙ্গে ২০২৬ সালের এই অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও বিদেশে সর্বত্র সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসময় ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও মর্যাদার চোখে দেখা হয়। বর্তমান জাতীয় সংসদে বহু সংসদ সদস্য ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সাথে আলোচনায় বাংলাদেশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টিও প্রশংসা পান প্রতিনিধিদলের কাছে।

আলোচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে, যা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটেনের নাগরিক সুবিধার আদলেই রূপ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশের ইনস্টিটিউশনগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরলস কাজ করছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বাংলাদেশ পার্লামেন্টের জন্য একটি অনন্য মডেল হিসেবে বিবেচনা করেন। এ সময় ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায়ে এখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার এবং ঐতিহাসিক সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের এই বন্ধুত্ব অত্যন্ত নিবিড় ও ঐতিহ্যগত। বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা উভয় দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।

দুই দেশের সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়, যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা বাংলাদেশে চালু এবং দুই দেশের যৌথ কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার অপসানা বেগম, শওকত আদম এবং যুক্তরাজ্যের এপিপিজির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হোসেন। এছাড়াও, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সংসদ ভবন ও নবনির্মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান, যার জবাবে প্রতিনিধিদল অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সরকারি চাকরির নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটের সময় : ০১:২০:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী করতে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজির) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত প্রায় দেড় দশকে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র বহাল ছিল না, তবে বর্তমানে সংসদে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে এবং বিরোধী দল জাতীয় সংসদে তাদের যথাযথ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে, যা সংসদীয় রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

এসময় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে মডেল হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউশনগুলোকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে। সেইসঙ্গে ২০২৬ সালের এই অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও বিদেশে সর্বত্র সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসময় ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও মর্যাদার চোখে দেখা হয়। বর্তমান জাতীয় সংসদে বহু সংসদ সদস্য ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সাথে আলোচনায় বাংলাদেশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টিও প্রশংসা পান প্রতিনিধিদলের কাছে।

আলোচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে, যা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটেনের নাগরিক সুবিধার আদলেই রূপ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশের ইনস্টিটিউশনগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরলস কাজ করছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বাংলাদেশ পার্লামেন্টের জন্য একটি অনন্য মডেল হিসেবে বিবেচনা করেন। এ সময় ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায়ে এখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার এবং ঐতিহাসিক সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের এই বন্ধুত্ব অত্যন্ত নিবিড় ও ঐতিহ্যগত। বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা উভয় দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।

দুই দেশের সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়, যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা বাংলাদেশে চালু এবং দুই দেশের যৌথ কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার অপসানা বেগম, শওকত আদম এবং যুক্তরাজ্যের এপিপিজির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হোসেন। এছাড়াও, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সংসদ ভবন ও নবনির্মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান, যার জবাবে প্রতিনিধিদল অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

Share this news as a Photo Card