নিউইয়র্ক ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: ডা. জাহিদ

  • আপডেটের সময় : ০১:১৪:১৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আগামী চার বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’— শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের যত্ন ও বিকাশের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। পথশিশুদের জন্যও মন্ত্রণালয়ের একটি আলাদা বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসন ও তাদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য শুধু পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না, তাদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও এই সুযোগের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এ সময় জাহিদ হোসেন আরও বলেন, শিশু একাডেমির মাধ্যমে শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চায় সরকার। শিশুদের বিকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিশুদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো শিশু নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে না করে। রাস্তায় থাকা শিশু এবং পরিবারের শিশু সবার প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও বিকাশের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নামে যে কথাটি আমরা এখন ব্যবহার করছি, এই কথাটি আর কখনো যেন ব্যবহার করতে না হয়। 

এ সময় পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেটি সুরক্ষিত রাখা জরুরি। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে শুধু আইন থাকলেই হবে না, সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিশু একাডেমি বা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। 

জাহিদ হোসেন বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণসহ সব মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকবে।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: ডা. জাহিদ

আপডেটের সময় : ০১:১৪:১৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আগামী চার বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’— শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের যত্ন ও বিকাশের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। পথশিশুদের জন্যও মন্ত্রণালয়ের একটি আলাদা বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসন ও তাদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য শুধু পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না, তাদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও এই সুযোগের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এ সময় জাহিদ হোসেন আরও বলেন, শিশু একাডেমির মাধ্যমে শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চায় সরকার। শিশুদের বিকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিশুদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো শিশু নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে না করে। রাস্তায় থাকা শিশু এবং পরিবারের শিশু সবার প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও বিকাশের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নামে যে কথাটি আমরা এখন ব্যবহার করছি, এই কথাটি আর কখনো যেন ব্যবহার করতে না হয়। 

এ সময় পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেটি সুরক্ষিত রাখা জরুরি। শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে শুধু আইন থাকলেই হবে না, সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিশু একাডেমি বা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। 

জাহিদ হোসেন বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণসহ সব মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকবে।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম। 

Share this news as a Photo Card