নিউইয়র্ক ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের রকেট, বাড়ছে মহাকাশ বর্জ্যের শঙ্কা

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৪:১৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ২৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের একটি নিয়ন্ত্রণহীন রকেটের বিশাল অংশ বুধবার (৫ আগস্ট) তীব্র গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছে নাসাসহ বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় চার টন ওজনের এই অংশটির দৈর্ঘ্য ছিল পাঁচতলা ভবনের সমান। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৪৩ কিলোমিটার (ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল) গতিতে চাঁদে আঘাত হানে।

এটি ছিল স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশ। গত বছর একটি আন্তর্জাতিক চন্দ্রাভিযানের অংশ হিসেবে দুটি চন্দ্রযান ও গবেষণা সরঞ্জাম মহাকাশে পাঠাতে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মূল কাজ শেষ হওয়ার পর রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ পৃথিবীতে ফিরে এলেও উপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়।

গত ১৮ মাস ধরে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে এই পরিত্যক্ত অংশটি ধীরে ধীরে কক্ষপথ থেকে সরে চাঁদের দিকে এগোতে থাকে।

নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে পৃথিবী বা মানবজাতির জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ম্যাট বোথওয়েল বিবিসিকে বলেন, এটি চাঁদের বুকে এক বিশাল সংঘর্ষের ঘটনা। তবে পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং বিজ্ঞানীদের জন্য এটি এক বিশেষ গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

খালি চোখে পৃথিবী থেকে এই সংঘর্ষ দেখা যায়নি। তবে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধূলিঝড় ও আলোর ঝলকানির তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছে একটি নতুন গর্ত তৈরি হয়েছে। নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি মহাকাশযান আঘাতের আগে ও পরের ছবি তুলে বিশ্লেষণ করবে। শিগগিরই সেই ছবিগুলো প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামের মহাকাশ বিভাগের প্রধান লিবি জ্যাকসন বলেন, উল্কাপাতের ওজন বা গতি আমরা আগে থেকে জানতে পারি না। কিন্তু এবার রকেটের ভর ও গতি আগেই জানা ছিল। ফলে চাঁদের গঠন ও মাটির উপাদান নিয়ে গবেষণায় নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষের পর চাঁদে মানুষের তৈরি বস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজারে। এগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১৯০ টন। ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা-২ প্রথম চাঁদে আঘাত করার পর থেকে বিভিন্ন অভিযানের কারণে এসব যন্ত্রাংশ জমা হয়ে আসছে।

আগামী দিনে চাঁদে অভিযান ও কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন। এতে কক্ষপথে জমতে থাকা এসব মহাকাশ বর্জ্য ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও উপগ্রহগুলোর জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চাঁদে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের রকেট, বাড়ছে মহাকাশ বর্জ্যের শঙ্কা

আপডেটের সময় : ০৮:০৪:১৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের একটি নিয়ন্ত্রণহীন রকেটের বিশাল অংশ বুধবার (৫ আগস্ট) তীব্র গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছে নাসাসহ বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় চার টন ওজনের এই অংশটির দৈর্ঘ্য ছিল পাঁচতলা ভবনের সমান। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৪৩ কিলোমিটার (ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল) গতিতে চাঁদে আঘাত হানে।

এটি ছিল স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশ। গত বছর একটি আন্তর্জাতিক চন্দ্রাভিযানের অংশ হিসেবে দুটি চন্দ্রযান ও গবেষণা সরঞ্জাম মহাকাশে পাঠাতে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মূল কাজ শেষ হওয়ার পর রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ পৃথিবীতে ফিরে এলেও উপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়।

গত ১৮ মাস ধরে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে এই পরিত্যক্ত অংশটি ধীরে ধীরে কক্ষপথ থেকে সরে চাঁদের দিকে এগোতে থাকে।

নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে পৃথিবী বা মানবজাতির জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ম্যাট বোথওয়েল বিবিসিকে বলেন, এটি চাঁদের বুকে এক বিশাল সংঘর্ষের ঘটনা। তবে পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং বিজ্ঞানীদের জন্য এটি এক বিশেষ গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

খালি চোখে পৃথিবী থেকে এই সংঘর্ষ দেখা যায়নি। তবে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধূলিঝড় ও আলোর ঝলকানির তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছে একটি নতুন গর্ত তৈরি হয়েছে। নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি মহাকাশযান আঘাতের আগে ও পরের ছবি তুলে বিশ্লেষণ করবে। শিগগিরই সেই ছবিগুলো প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামের মহাকাশ বিভাগের প্রধান লিবি জ্যাকসন বলেন, উল্কাপাতের ওজন বা গতি আমরা আগে থেকে জানতে পারি না। কিন্তু এবার রকেটের ভর ও গতি আগেই জানা ছিল। ফলে চাঁদের গঠন ও মাটির উপাদান নিয়ে গবেষণায় নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষের পর চাঁদে মানুষের তৈরি বস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজারে। এগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১৯০ টন। ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা-২ প্রথম চাঁদে আঘাত করার পর থেকে বিভিন্ন অভিযানের কারণে এসব যন্ত্রাংশ জমা হয়ে আসছে।

আগামী দিনে চাঁদে অভিযান ও কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন। এতে কক্ষপথে জমতে থাকা এসব মহাকাশ বর্জ্য ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও উপগ্রহগুলোর জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে।

Share this news as a Photo Card