নিউইয়র্ক ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যন্তর-মন্তরে হামলার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের -পাঞ্জাব পুলিশ

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৯:০৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নিয়ন্ত্রিত জঙ্গিরা গত মাসে তরুণদের আন্দোলন চলার সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জঙ্গিরা যন্তর মন্তরে গিয়েছিল।

তবে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঞ্জাব পুলিশ মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা আইএসআই সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৯ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন কিশোর।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিদেশে থাকা জঙ্গিরা অভিযুক্তদের নানা নির্দেশনা দিতেন এবং সেসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় যুবকদের দলে ভেড়ানোর দায়িত্ব দিতেন।

পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিচালক গৌরব যাদব বলেন, ‘একটি বড় সাফল্যে অমৃতসর কমিশনারেট পুলিশ আইএসআই-সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে। চার কিশোরসহ ৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ৪টি পেট্রলবোমা ও ৯টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নেটওয়ার্কটিকে চিহ্নিত করা হয়ও রাজাসানসি এলাকায়। সেখান থেকে পুলিশ সুখমান সিং এবং তার তিন নাবালক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ দাবি করেছে যে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে হামলা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই নেটওয়ার্কটিকে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুখমান স্বীকার করেছে যে সে পাকিস্তানে থাকা একজন আইএসআই হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে হামলা চালানোর দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের মতে, সুখমান আরো প্রকাশ করেছে যে, সে তার সহযোগীদের নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিল।

কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার কারণে হামলা চালাতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা গেছে যে, যন্তর মন্তর হামলার জন্য উত্তর প্রদেশের এক সহযোগীর সুখমান ও তার সঙ্গীদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং তারা সবাই পাঞ্জাবে ফিরে আসে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার এবং সন্ত্রাসী শাহজাদ ভাট্টি পাঞ্জাবের এই নেটওয়ার্কটির নেপথ্যে রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বর্ধমান থেকে মোহাম্মদ হামিম মণ্ডল এবং ঝাড়খণ্ড থেকে তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরও যন্তর মন্তরে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে হামিমও শেষ পর্যন্ত যন্তর মন্তরে হামলা চালাতে পারেননি। হামিম মণ্ডলের সঙ্গে শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তদন্তে আরো প্রকাশ পেয়েছে যে অভিযুক্তদের পাঞ্জাবের পুলিশ ভবন এবং পুলিশ কর্মীদের ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

গত মাসে রেললাইনের কাছাকাছি কিছু সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়ার যায়। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই দ্বিতীয় নেটওয়ার্কটি সন্ধান পায় পুলিশ।

গৌরব যাদব জানান, তদন্তে জানা গেছে, রেললাইনের কাছের এই সিসিটিভির ফুটেজ গোপনে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন তারন তারনের পাত্তি এলাকার বংশ কুমার (১৯) ও আনমোল সিং ওরফে সাহিল (২০); অমৃতসরের হারমান সিং ওরফে হাম্মু (২৪), সুখদেব সিং (৩০) এবং সুখমান সিং (১৯)। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি চার অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লার বলেন যে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল বংশ কুমার এবং তার এক কিশোর সহযোগীকে আটক করে। সে সময় তাদের কাছ থেকে একটি অবৈধ ৩২ বোরের দেশি পিস্তল এবং তিনটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

ভুল্লার জানান, পরবর্তী তদন্তে জানা গেছে যে রেললাইনের কাছে নজরদারি ক্যামেরা বসানোর আর্থিক লেনদেনগুলো পেটিএমের মাধ্যমে করা হয়েছিল। অমৃতসর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি সুখদেব সিং তার সহ-কয়েদি হারমান সিং ওরফে হাম্মুর প্ররোচনায় এই লেনদেনগুলো করেছিল। তাদের প্রডাকশন ওয়ারেন্টে এনে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানকে কড়া হুঁশিয়ারি কিমের বোনের, নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবল ভারতীয় জাহাজ

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যন্তর-মন্তরে হামলার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের -পাঞ্জাব পুলিশ

আপডেটের সময় : ০৮:৫৯:০৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নিয়ন্ত্রিত জঙ্গিরা গত মাসে তরুণদের আন্দোলন চলার সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জঙ্গিরা যন্তর মন্তরে গিয়েছিল।

তবে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঞ্জাব পুলিশ মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা আইএসআই সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৯ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন কিশোর।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিদেশে থাকা জঙ্গিরা অভিযুক্তদের নানা নির্দেশনা দিতেন এবং সেসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় যুবকদের দলে ভেড়ানোর দায়িত্ব দিতেন।

পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিচালক গৌরব যাদব বলেন, ‘একটি বড় সাফল্যে অমৃতসর কমিশনারেট পুলিশ আইএসআই-সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে। চার কিশোরসহ ৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ৪টি পেট্রলবোমা ও ৯টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নেটওয়ার্কটিকে চিহ্নিত করা হয়ও রাজাসানসি এলাকায়। সেখান থেকে পুলিশ সুখমান সিং এবং তার তিন নাবালক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ দাবি করেছে যে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে হামলা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই নেটওয়ার্কটিকে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুখমান স্বীকার করেছে যে সে পাকিস্তানে থাকা একজন আইএসআই হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে হামলা চালানোর দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের মতে, সুখমান আরো প্রকাশ করেছে যে, সে তার সহযোগীদের নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিল।

কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার কারণে হামলা চালাতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা গেছে যে, যন্তর মন্তর হামলার জন্য উত্তর প্রদেশের এক সহযোগীর সুখমান ও তার সঙ্গীদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং তারা সবাই পাঞ্জাবে ফিরে আসে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার এবং সন্ত্রাসী শাহজাদ ভাট্টি পাঞ্জাবের এই নেটওয়ার্কটির নেপথ্যে রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বর্ধমান থেকে মোহাম্মদ হামিম মণ্ডল এবং ঝাড়খণ্ড থেকে তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরও যন্তর মন্তরে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে হামিমও শেষ পর্যন্ত যন্তর মন্তরে হামলা চালাতে পারেননি। হামিম মণ্ডলের সঙ্গে শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তদন্তে আরো প্রকাশ পেয়েছে যে অভিযুক্তদের পাঞ্জাবের পুলিশ ভবন এবং পুলিশ কর্মীদের ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

গত মাসে রেললাইনের কাছাকাছি কিছু সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়ার যায়। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই দ্বিতীয় নেটওয়ার্কটি সন্ধান পায় পুলিশ।

গৌরব যাদব জানান, তদন্তে জানা গেছে, রেললাইনের কাছের এই সিসিটিভির ফুটেজ গোপনে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন তারন তারনের পাত্তি এলাকার বংশ কুমার (১৯) ও আনমোল সিং ওরফে সাহিল (২০); অমৃতসরের হারমান সিং ওরফে হাম্মু (২৪), সুখদেব সিং (৩০) এবং সুখমান সিং (১৯)। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি চার অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লার বলেন যে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল বংশ কুমার এবং তার এক কিশোর সহযোগীকে আটক করে। সে সময় তাদের কাছ থেকে একটি অবৈধ ৩২ বোরের দেশি পিস্তল এবং তিনটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

ভুল্লার জানান, পরবর্তী তদন্তে জানা গেছে যে রেললাইনের কাছে নজরদারি ক্যামেরা বসানোর আর্থিক লেনদেনগুলো পেটিএমের মাধ্যমে করা হয়েছিল। অমৃতসর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি সুখদেব সিং তার সহ-কয়েদি হারমান সিং ওরফে হাম্মুর প্ররোচনায় এই লেনদেনগুলো করেছিল। তাদের প্রডাকশন ওয়ারেন্টে এনে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card