নিউইয়র্ক ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সম্ভবত এটাই শেষ, আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সামর্থ্য নেই’

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৯:২২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার। ফাইনালের পরই দলটির অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কয়েকজনের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এবার সেই তালিকায় নিজের নামও যুক্ত করলেন আর্জেন্টিনার লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো।

৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার মতো শারীরিক সামর্থ্য নিজের মধ্যে দেখছেন না তিনি।

স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে আলাপের সময় তালিয়াফিকো বলেন, এবারের বিশ্বকাপকে তিনি অন্য যেকোনো আসরের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, এটি হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। যদিও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।

তালিয়াফিকোর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের মধ্যে তার অবস্থান সপ্তম। তার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল দি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস।

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডারের সামনে ছিল ১০০ ম্যাচের মাইলফলক। তবে সেটিও ছোঁয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তালিয়াফিকো বলেন,  ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’

বিশ্বকাপ শেষে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। পাশাপাশি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসের বক্তব্যেও অবসরের আভাস পাওয়া গেছে।

ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও দলের অর্জন নিয়ে হতাশ নন তালিয়াফিকো। তার মতে, টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং একটি শিরোপা ও একটি রানার্সআপ পদক জয় করাও বড় সাফল্য।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে স্বর্ণপদক (চ্যাম্পিয়ন মেডেল) আছে, ২০২২ সালে পাওয়া। এখন আমরা এটি (রানার্সআপ পদক) পেলাম। আমরা বিশ্বকাপে যা করেছি সেজন্য গর্বিত হওয়া উচিত। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ ব্যাপার নয় এবং আমাদের তা মূল্যায়ন করা দরকার।’

তালিয়াফিকো আরও বলেন, ‘আমাদের এটাও জানতে হবে কীভাবে মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি সফল হয়েছেন। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। আর দুর্ভাগ্যবশত, কখনও জয় আসে আবার কখনও পরাজয়– ফুটবল তো এমনই। তবে এটি রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নেয় এবং এর গুরুত্ব অনে’।

আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার আরও জানান, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মূল টুর্নামেন্টের এক মাস আগে শুরু হয় না। বরং একটি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী আসরের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।

তার ভাষায়, ‘এমনটা ভাববেন না যে এর প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয়। বিষয়টি কেবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নয়, যার সময়কাল মাসখানেকের সামান্য বেশি। এর প্রস্তুতি চলছে সাড়ে তিন বছর ধরে, অর্থাৎ গত বিশ্বকাপের সময় থেকেই। আপনি যখন খেলার দিকটিতে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেন, যেমন শারীরিক দিক থেকে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করে আসব, তখন থেকেই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এটি কেবল এক মাসের ব্যাপার নয়, এর শুরুটা আরও আগে থেকেই হয়।’

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের নতুন চক্র শুরু করবে আর্জেন্টিনা। সেই যাত্রায় মেসি, তালিয়াফিকো, ওতামেন্দিসহ বর্তমান দলের কতজন থাকবেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইতালির বিমানবন্দরে দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা আটকা ফ্লাইট, ওষুধ লাগেজে থাকায় অসুস্থ অনেক যাত্রী

ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত

০৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘সম্ভবত এটাই শেষ, আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সামর্থ্য নেই’

আপডেটের সময় : ০৫:০৯:২২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার। ফাইনালের পরই দলটির অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কয়েকজনের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এবার সেই তালিকায় নিজের নামও যুক্ত করলেন আর্জেন্টিনার লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো।

৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার মতো শারীরিক সামর্থ্য নিজের মধ্যে দেখছেন না তিনি।

স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে আলাপের সময় তালিয়াফিকো বলেন, এবারের বিশ্বকাপকে তিনি অন্য যেকোনো আসরের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, এটি হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। যদিও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।

তালিয়াফিকোর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের মধ্যে তার অবস্থান সপ্তম। তার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল দি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস।

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডারের সামনে ছিল ১০০ ম্যাচের মাইলফলক। তবে সেটিও ছোঁয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তালিয়াফিকো বলেন,  ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’

বিশ্বকাপ শেষে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। পাশাপাশি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসের বক্তব্যেও অবসরের আভাস পাওয়া গেছে।

ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও দলের অর্জন নিয়ে হতাশ নন তালিয়াফিকো। তার মতে, টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং একটি শিরোপা ও একটি রানার্সআপ পদক জয় করাও বড় সাফল্য।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে স্বর্ণপদক (চ্যাম্পিয়ন মেডেল) আছে, ২০২২ সালে পাওয়া। এখন আমরা এটি (রানার্সআপ পদক) পেলাম। আমরা বিশ্বকাপে যা করেছি সেজন্য গর্বিত হওয়া উচিত। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ ব্যাপার নয় এবং আমাদের তা মূল্যায়ন করা দরকার।’

তালিয়াফিকো আরও বলেন, ‘আমাদের এটাও জানতে হবে কীভাবে মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি সফল হয়েছেন। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। আর দুর্ভাগ্যবশত, কখনও জয় আসে আবার কখনও পরাজয়– ফুটবল তো এমনই। তবে এটি রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নেয় এবং এর গুরুত্ব অনে’।

আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার আরও জানান, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মূল টুর্নামেন্টের এক মাস আগে শুরু হয় না। বরং একটি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী আসরের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।

তার ভাষায়, ‘এমনটা ভাববেন না যে এর প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয়। বিষয়টি কেবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নয়, যার সময়কাল মাসখানেকের সামান্য বেশি। এর প্রস্তুতি চলছে সাড়ে তিন বছর ধরে, অর্থাৎ গত বিশ্বকাপের সময় থেকেই। আপনি যখন খেলার দিকটিতে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেন, যেমন শারীরিক দিক থেকে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করে আসব, তখন থেকেই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এটি কেবল এক মাসের ব্যাপার নয়, এর শুরুটা আরও আগে থেকেই হয়।’

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের নতুন চক্র শুরু করবে আর্জেন্টিনা। সেই যাত্রায় মেসি, তালিয়াফিকো, ওতামেন্দিসহ বর্তমান দলের কতজন থাকবেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card