নিউইয়র্ক ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগ, জিয়াউল আহসানকে হাজিরের নির্দেশ

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে আগামী ২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামী ২৭ আগস্ট তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

গত বছরের ৩ জুন তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং সিটিটিসির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের নাম রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। সে সময় তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ অভিযোগ করেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিয়ে গেছেন। তখন সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রায় দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সে সময় ভারতীয় পুলিশের দাবি ছিল, শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তারা সালাহউদ্দিনকে আটক করে।

পরে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে মামলাটিতে খালাস পান তিনি। ভারত সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতও তাঁকে খালাস দেন এবং দেশে ফেরার পথ খুলে যায়।

পরে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেন সালাহউদ্দিন। তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থাকার কারণে তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করতে পারেননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেন সালাহউদ্দিন। ৬ আগস্ট তিনি ট্রাভেল পাস পান এবং ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৪৭

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগ, জিয়াউল আহসানকে হাজিরের নির্দেশ

আপডেটের সময় : ০৪:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে আগামী ২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামী ২৭ আগস্ট তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

গত বছরের ৩ জুন তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং সিটিটিসির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের নাম রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। সে সময় তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ অভিযোগ করেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিয়ে গেছেন। তখন সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রায় দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সে সময় ভারতীয় পুলিশের দাবি ছিল, শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তারা সালাহউদ্দিনকে আটক করে।

পরে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে মামলাটিতে খালাস পান তিনি। ভারত সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতও তাঁকে খালাস দেন এবং দেশে ফেরার পথ খুলে যায়।

পরে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেন সালাহউদ্দিন। তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থাকার কারণে তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করতে পারেননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেন সালাহউদ্দিন। ৬ আগস্ট তিনি ট্রাভেল পাস পান এবং ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন।

Share this news as a Photo Card