নিউইয়র্ক ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরব

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪৭:২০ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও গভীর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছে সৌদি আরব। সোমবার (১০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাকে অনেকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে অভিহিত করছেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল শর্ত হলো যেকোনো একটি দেশে হামলা মানেই তা সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই তুরস্ক এই চুক্তিতে যুক্ত হয়, যা ন্যাটোর সঙ্গে তাদের অঙ্গীকারের কোনো লঙ্ঘন ঘটায় না।

চলমান ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পটভূমিতে সৌদি আরব সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদির প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৮৬ শতাংশ কমে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হুথি এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।প্রতিরক্ষার দিক থেকে এই তিন দেশ অত্যন্ত শক্তিশালী এক জোট গঠন করেছে, যেখানে সৌদি আরব অর্থায়ন করবে, তুরস্ক উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সেনা সমর্থন দেবে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল, যা ইসরায়েল কর্তৃক কাতারে আক্রমণের পর আরও সম্প্রসারিত হয়ে এখন তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ঐতিহাসিক মুসলিম ব্রাদারহুড বিতর্ক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় প্রক্সি যুদ্ধ এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে তুরস্ক ও সৌদির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে মক্কার এই চুক্তি সৌদি রাজপরিবারের চরম দুর্বলতা ঢাকতে এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক কৌশল হিসেবে কাজ করছে।

সংঘাতের কারণে যুবরাজ সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘নিওম’ প্রকল্প থমকে গেছে, যা তাদের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। মূলত ইরান, হুথি গোষ্ঠী, এমনকি ইসরায়েলকে বার্তা দেওয়া এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই রিয়াদ এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৪৭

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরব

আপডেটের সময় : ০৫:৪৭:২০ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও গভীর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছে সৌদি আরব। সোমবার (১০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাকে অনেকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে অভিহিত করছেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল শর্ত হলো যেকোনো একটি দেশে হামলা মানেই তা সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই তুরস্ক এই চুক্তিতে যুক্ত হয়, যা ন্যাটোর সঙ্গে তাদের অঙ্গীকারের কোনো লঙ্ঘন ঘটায় না।

চলমান ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পটভূমিতে সৌদি আরব সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদির প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৮৬ শতাংশ কমে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হুথি এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।প্রতিরক্ষার দিক থেকে এই তিন দেশ অত্যন্ত শক্তিশালী এক জোট গঠন করেছে, যেখানে সৌদি আরব অর্থায়ন করবে, তুরস্ক উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সেনা সমর্থন দেবে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল, যা ইসরায়েল কর্তৃক কাতারে আক্রমণের পর আরও সম্প্রসারিত হয়ে এখন তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ঐতিহাসিক মুসলিম ব্রাদারহুড বিতর্ক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় প্রক্সি যুদ্ধ এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে তুরস্ক ও সৌদির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে মক্কার এই চুক্তি সৌদি রাজপরিবারের চরম দুর্বলতা ঢাকতে এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক কৌশল হিসেবে কাজ করছে।

সংঘাতের কারণে যুবরাজ সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘নিওম’ প্রকল্প থমকে গেছে, যা তাদের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। মূলত ইরান, হুথি গোষ্ঠী, এমনকি ইসরায়েলকে বার্তা দেওয়া এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই রিয়াদ এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে।

Share this news as a Photo Card