নিউইয়র্ক ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাজিরায় শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ, সালিশে এক লাখ টাকায় মীমাংসার দাবি 

  • আপডেটের সময় : ০৭:০২:১১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে ইলিয়াস খান (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সালিশ বসিয়ে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়নগর আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে বলৎকার করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযুক্ত ইলিয়াস খান স্থানীয় সামচু খানের ছেলে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম ও মান্নান শিকদারের নেতৃত্বে একাধিকবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবার সঙ্গে আপসের চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তিনি প্রথমে আপসে রাজি ছিলেন না এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথাও জানান। পরে স্থানীয় সালিশকারীদের চাপে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করেন বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে আপস করতে চাইনি। আমি বিচার চেয়েছিলাম। পরে স্থানীয় সালিশকারীরা এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন। পরে একটি লিখিত কাগজে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।’

সবশেষ গত বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে সালিশ বৈঠক বসে বলে জানা গেছে। সেখানে মাওলানা মো. সেলিম, মান্নান শিকদারসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকেই এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গুরুতর অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে মীমাংসার উদ্যোগের সমালোচনা করে অনেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম বলেন, ‘আমি এখানে একা ছিলাম না। আরও অনেকেই ছিলেন। ইলিয়াস খান সম্মানিত ব্যক্তি। বিষয়টি সমাধানে এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।’

তবে সালিশে এক লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সালিশকারী মান্নান শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আসেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিশুটির নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এখন দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: রণধীর জয়সোয়াল

অলাভজনক সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে ইন্দোনেশিয়া

১৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জাজিরায় শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ, সালিশে এক লাখ টাকায় মীমাংসার দাবি 

আপডেটের সময় : ০৭:০২:১১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে ইলিয়াস খান (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সালিশ বসিয়ে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়নগর আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে বলৎকার করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযুক্ত ইলিয়াস খান স্থানীয় সামচু খানের ছেলে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম ও মান্নান শিকদারের নেতৃত্বে একাধিকবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবার সঙ্গে আপসের চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তিনি প্রথমে আপসে রাজি ছিলেন না এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথাও জানান। পরে স্থানীয় সালিশকারীদের চাপে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করেন বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে আপস করতে চাইনি। আমি বিচার চেয়েছিলাম। পরে স্থানীয় সালিশকারীরা এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন। পরে একটি লিখিত কাগজে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।’

সবশেষ গত বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে সালিশ বৈঠক বসে বলে জানা গেছে। সেখানে মাওলানা মো. সেলিম, মান্নান শিকদারসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকেই এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গুরুতর অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে মীমাংসার উদ্যোগের সমালোচনা করে অনেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম বলেন, ‘আমি এখানে একা ছিলাম না। আরও অনেকেই ছিলেন। ইলিয়াস খান সম্মানিত ব্যক্তি। বিষয়টি সমাধানে এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।’

তবে সালিশে এক লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সালিশকারী মান্নান শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আসেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিশুটির নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এখন দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card