নিউইয়র্ক ০৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেনিয়ায় ১৫ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু, কীটনাশক নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৭:২০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কেনিয়ার বিখ্যাত অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রহস্যজনকভাবে ১৫টি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে চরম উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে টমেটো খামারে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হলেও, সরকারি এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশ সংরক্ষণবিদরা

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মারা যাওয়া কয়েকটি হাতির শরীরে পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা গেছে। 

সংস্থাটির প্রধান পশুচিকিৎসক ডক্টর আইজ্যাক লেকোলুল জানান, মৃত হাতিগুলোর পাকস্থলী থেকে নেওয়া নমুনায় মারাত্বক রাসায়নিক সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, কিমানা এলাকার টমেটো ক্ষেতে পোকা দমনে ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই বিষক্রিয়া ঘটে থাকতে পারে।

তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগের আশঙ্কাও তারা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে কেডব্লিউএস-এর এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছেন না আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদরা। বিশ্বখ্যাত হাতি সংরক্ষণবিদ পাওলা কাহুম্বু বলেন, কীটনাশকের কারণেই মৃত্যু হয়েছে—এমন দাবিতে বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

কেনিয়ার বন্যপ্রাণী পরিষেবার প্রধান পশুচিকিৎসক ডক্টর আইজ্যাক লেকোলুল জানিয়েছেন যে, তারা হাতিগুলোর পেট থেকে নেওয়া নমুনায় সায়ানাইডের চিহ্ন পেয়েছেন।

তিনি বলেছেন যে, তারা ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, কিন্তু এই পর্যায়ে বলা অসম্ভব যে কী কারণে হাতিগুলো মারা গেছে।

‘এটা বলা কঠিন, কারণ আমরা আগে এই ধরনের ঘটনা দেখিনি। এটা প্রায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এটি প্রায় এক মাসের মধ্যে ঘটেছে,’ লেকোলুল বলেছেন।

তাদের কার্যকারী ধারণাটি হলো, কাছাকাছি টমেটো ক্ষেতে ছিটানো কীটনাশকের মাধ্যমে হাতিগুলো বিষাক্ত পদার্থটির সংস্পর্শে এসেছিল।

এটা অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। হয়তো মানুষ তাদের ফসলের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, এবং সেটাই এর একটি উৎস হতে পারে।

গবেষণা সংস্থা ‘রুট টু ফুড’-এর ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়ায় নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী তানজানিয়া সীমান্ত দিয়ে অবাধে বিপজ্জনক কৃষি রাসায়নিক পাচার হয়ে আসছে।

শিথিল নজরদারির সুযোগে কৃষকরা না জেনেই ফসলে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

বিশেষজ্ঞরা সরকারি তদন্তের ওপর মূলত দুইটি কারণে প্রশ্ন তুলছেন—প্রথমত, লোকালয়ের খামারে হানা দেওয়ার ঝুঁকি সাধারণত পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতিরা নিলেও মৃত ১৫টি হাতির মধ্যে মাত্র একটি পুরুষ এবং বাকিগুলো ছিল স্ত্রী ও ছোট হাতি, যা হাতির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মেলে না। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রতিনিধি ড্যানিয়েল নিনার প্রশ্ন অনুযায়ী, ফসল খেয়ে যদি হাতিই মারা যাবে, তবে একই এলাকায় পাশাপাশি বিচরণ করা ও ঘাস খাওয়া জেব্রা বা হরিণ জাতীয় অন্য প্রাণীদের কোনো ক্ষতি হলো না কেন?

সংরক্ষণ সংস্থা ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্টস’-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক পোপ জানান, আসল সংকট তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিত ‘ভূমি ব্যবহার’ নিয়ে। অ্যাম্বোসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের সংযোগস্থলে হাতি চলাচলের করিডোরগুলোতে মানুষ উর্বর জমি ও পানির খোঁজে খামার ও রিসোর্ট গড়ে তুলছে। এর ফলে গৃহহীন হাতিরা প্রায়ই ফসলি জমিতে হানা দিচ্ছে এবং কৃষকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এখন পর্যন্ত হাতিগুলোর মৃত্যুর আসল কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই বিষাক্ত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অবশিষ্ট হাতি ও স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানকে কড়া হুঁশিয়ারি কিমের বোনের, নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবল ভারতীয় জাহাজ

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কেনিয়ায় ১৫ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু, কীটনাশক নিয়ে প্রশ্ন

আপডেটের সময় : ০৮:৫৭:২০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

কেনিয়ার বিখ্যাত অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রহস্যজনকভাবে ১৫টি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে চরম উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে টমেটো খামারে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হলেও, সরকারি এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশ সংরক্ষণবিদরা

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মারা যাওয়া কয়েকটি হাতির শরীরে পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা গেছে। 

সংস্থাটির প্রধান পশুচিকিৎসক ডক্টর আইজ্যাক লেকোলুল জানান, মৃত হাতিগুলোর পাকস্থলী থেকে নেওয়া নমুনায় মারাত্বক রাসায়নিক সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, কিমানা এলাকার টমেটো ক্ষেতে পোকা দমনে ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই বিষক্রিয়া ঘটে থাকতে পারে।

তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগের আশঙ্কাও তারা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে কেডব্লিউএস-এর এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছেন না আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদরা। বিশ্বখ্যাত হাতি সংরক্ষণবিদ পাওলা কাহুম্বু বলেন, কীটনাশকের কারণেই মৃত্যু হয়েছে—এমন দাবিতে বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

কেনিয়ার বন্যপ্রাণী পরিষেবার প্রধান পশুচিকিৎসক ডক্টর আইজ্যাক লেকোলুল জানিয়েছেন যে, তারা হাতিগুলোর পেট থেকে নেওয়া নমুনায় সায়ানাইডের চিহ্ন পেয়েছেন।

তিনি বলেছেন যে, তারা ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, কিন্তু এই পর্যায়ে বলা অসম্ভব যে কী কারণে হাতিগুলো মারা গেছে।

‘এটা বলা কঠিন, কারণ আমরা আগে এই ধরনের ঘটনা দেখিনি। এটা প্রায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এটি প্রায় এক মাসের মধ্যে ঘটেছে,’ লেকোলুল বলেছেন।

তাদের কার্যকারী ধারণাটি হলো, কাছাকাছি টমেটো ক্ষেতে ছিটানো কীটনাশকের মাধ্যমে হাতিগুলো বিষাক্ত পদার্থটির সংস্পর্শে এসেছিল।

এটা অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। হয়তো মানুষ তাদের ফসলের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, এবং সেটাই এর একটি উৎস হতে পারে।

গবেষণা সংস্থা ‘রুট টু ফুড’-এর ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়ায় নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী তানজানিয়া সীমান্ত দিয়ে অবাধে বিপজ্জনক কৃষি রাসায়নিক পাচার হয়ে আসছে।

শিথিল নজরদারির সুযোগে কৃষকরা না জেনেই ফসলে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

বিশেষজ্ঞরা সরকারি তদন্তের ওপর মূলত দুইটি কারণে প্রশ্ন তুলছেন—প্রথমত, লোকালয়ের খামারে হানা দেওয়ার ঝুঁকি সাধারণত পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতিরা নিলেও মৃত ১৫টি হাতির মধ্যে মাত্র একটি পুরুষ এবং বাকিগুলো ছিল স্ত্রী ও ছোট হাতি, যা হাতির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মেলে না। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রতিনিধি ড্যানিয়েল নিনার প্রশ্ন অনুযায়ী, ফসল খেয়ে যদি হাতিই মারা যাবে, তবে একই এলাকায় পাশাপাশি বিচরণ করা ও ঘাস খাওয়া জেব্রা বা হরিণ জাতীয় অন্য প্রাণীদের কোনো ক্ষতি হলো না কেন?

সংরক্ষণ সংস্থা ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্টস’-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক পোপ জানান, আসল সংকট তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিত ‘ভূমি ব্যবহার’ নিয়ে। অ্যাম্বোসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের সংযোগস্থলে হাতি চলাচলের করিডোরগুলোতে মানুষ উর্বর জমি ও পানির খোঁজে খামার ও রিসোর্ট গড়ে তুলছে। এর ফলে গৃহহীন হাতিরা প্রায়ই ফসলি জমিতে হানা দিচ্ছে এবং কৃষকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এখন পর্যন্ত হাতিগুলোর মৃত্যুর আসল কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই বিষাক্ত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অবশিষ্ট হাতি ও স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card