নিউইয়র্ক ০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৩ হাজার, পৌঁছাতে পারে ১০ হাজার থেকে ১ লাখে

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধারকাজ। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার আশঙ্কা, চূড়ান্ত এই সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা প্রায় নেই বললেই চলে। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধারের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এদিকে, বিদেশে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে মরিয়া আবেদন জানাচ্ছেন।

কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনে আটকা পড়া প্রবীণ দম্পতি পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজের নাতি-নাতনিরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। উদ্ধারকারীদের মতে, ঐ দম্পতির সন্ধান পেতে ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব অপসারণ করা প্রয়োজন, যার জন্য ভারী ক্রেন ও উন্নত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। নাসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সরকারি তথ্যের সাথে বাস্তবতার এই বড় ফারাক নিয়ে ভেনেজুয়েলার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিতে ভূমিকম্পের আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। দুর্যোগের ফলে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ ঘোষণা করেছেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তদারকিতে একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠন করেছেন।

গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ভেনেজুয়েলা সরকার লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শেষ করে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

বর্তমানে পুরো ভেনেজুয়েলা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে উদ্ধারকাজের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয় ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের ‘লজ্জার’ রেকর্ড গড়লেন মেসি

০৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৩ হাজার, পৌঁছাতে পারে ১০ হাজার থেকে ১ লাখে

আপডেটের সময় : ০৫:২৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধারকাজ। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার আশঙ্কা, চূড়ান্ত এই সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা প্রায় নেই বললেই চলে। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধারের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এদিকে, বিদেশে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে মরিয়া আবেদন জানাচ্ছেন।

কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনে আটকা পড়া প্রবীণ দম্পতি পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজের নাতি-নাতনিরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। উদ্ধারকারীদের মতে, ঐ দম্পতির সন্ধান পেতে ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব অপসারণ করা প্রয়োজন, যার জন্য ভারী ক্রেন ও উন্নত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। নাসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সরকারি তথ্যের সাথে বাস্তবতার এই বড় ফারাক নিয়ে ভেনেজুয়েলার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিতে ভূমিকম্পের আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। দুর্যোগের ফলে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ ঘোষণা করেছেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তদারকিতে একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠন করেছেন।

গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ভেনেজুয়েলা সরকার লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শেষ করে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

বর্তমানে পুরো ভেনেজুয়েলা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে উদ্ধারকাজের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয় ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ।

Share this news as a Photo Card