নিউইয়র্ক ০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলা: জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান

  • আপডেটের সময় : ০৬:৪৪:২৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

এর আগে গত রোববার (২ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে হাফিজুর রহমানকে জামিন দেন হাইকোর্টের বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ।

তনু হত্যা মামলার তদন্তে প্রথম সন্দেহভাজন হিসেবে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের তিন মাস ১৪ দিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেন।

পিবিআই, আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, তনুর জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহের আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই আদালত ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেন।

ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ পাওয়া দুই সন্দেহভাজন হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)।

এ ছাড়া গত ৮ জুন আদালত তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে দুজনই পলাতক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজুর রহমানের জামিনে মুক্তির বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের আদেশ পৌঁছালে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা ইয়ার হোসেন।

থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হলেও সন্দেহভাজনদের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়নি।

পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার তদন্তভার সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিমসটেক প্রধান হিসেবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী, বহাল ফেব্রুয়ারির সফরও: নয়াদিল্লি

মার্কিন নৌ অবরোধ সহ্য করা হবে না: ইরান

০৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তনু হত্যা মামলা: জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান

আপডেটের সময় : ০৬:৪৪:২৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

এর আগে গত রোববার (২ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে হাফিজুর রহমানকে জামিন দেন হাইকোর্টের বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ।

তনু হত্যা মামলার তদন্তে প্রথম সন্দেহভাজন হিসেবে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের তিন মাস ১৪ দিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেন।

পিবিআই, আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, তনুর জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহের আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই আদালত ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেন।

ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ পাওয়া দুই সন্দেহভাজন হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)।

এ ছাড়া গত ৮ জুন আদালত তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে দুজনই পলাতক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজুর রহমানের জামিনে মুক্তির বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের আদেশ পৌঁছালে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা ইয়ার হোসেন।

থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হলেও সন্দেহভাজনদের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়নি।

পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার তদন্তভার সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

Share this news as a Photo Card