নিউইয়র্ক ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলা, প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হালিশহরে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোক ইট ও পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট-পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যেত, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।

রোববার (৯ আগস্ট) ঘটনাটি ঘটে হালিশহরে। তৃণমূলের সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বীরজু কেওট পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার অভিযোগের পর সেখানে উত্তেজনা চলছিল। মমতা সেই কর্মীর বাড়িতে যেতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা গাড়ি ঘিরে ধরে কাদা ছিটিয়ে দেন, জুতা ও পানির বোতলও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বলেন, পুলিশকে সামনে রেখেই বাইরে থেকে আসা কিছু অসামাজিক ব্যক্তি পাথর ছুঁড়েছে। তিনি দাবি করেন, জীবনে এর আগে কখনো এমন হামলার মুখে পড়েননি। পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ তার। মমতার কথায়, পুলিশ শুধু বিজেপিকেই নিরাপত্তা দেয়।

ঘটনার সময় মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

বিজেপি তবে হামলার সঙ্গে কোনো যোগ নেই বলে দাবি করেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা এতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন ব্যবস্থা নেয়।

বীরজু কেওট চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। জেনি শর্মার অভিযোগ, হেফাজতে নির্যাতন ও মারধরের ফলেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কেউ যদি পুলিশ হেফাজতে গিয়ে জীবিত ফিরে না আসে, তাহলে বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

কয়েক মাস আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নির্বাচনী এলাকায় হামলার মুখে পড়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয়ের পর সেই ঘটনা ঘটে। এবার মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম দিনেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলা, প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হালিশহরে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোক ইট ও পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট-পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যেত, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।

রোববার (৯ আগস্ট) ঘটনাটি ঘটে হালিশহরে। তৃণমূলের সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বীরজু কেওট পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার অভিযোগের পর সেখানে উত্তেজনা চলছিল। মমতা সেই কর্মীর বাড়িতে যেতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা গাড়ি ঘিরে ধরে কাদা ছিটিয়ে দেন, জুতা ও পানির বোতলও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বলেন, পুলিশকে সামনে রেখেই বাইরে থেকে আসা কিছু অসামাজিক ব্যক্তি পাথর ছুঁড়েছে। তিনি দাবি করেন, জীবনে এর আগে কখনো এমন হামলার মুখে পড়েননি। পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ তার। মমতার কথায়, পুলিশ শুধু বিজেপিকেই নিরাপত্তা দেয়।

ঘটনার সময় মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

বিজেপি তবে হামলার সঙ্গে কোনো যোগ নেই বলে দাবি করেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা এতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন ব্যবস্থা নেয়।

বীরজু কেওট চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। জেনি শর্মার অভিযোগ, হেফাজতে নির্যাতন ও মারধরের ফলেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কেউ যদি পুলিশ হেফাজতে গিয়ে জীবিত ফিরে না আসে, তাহলে বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

কয়েক মাস আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নির্বাচনী এলাকায় হামলার মুখে পড়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয়ের পর সেই ঘটনা ঘটে। এবার মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card