নিউইয়র্ক ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে দেশটিতে এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।

আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড ছিল জুনে। ওই মাসে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসে আটকের নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার করেছেন ট্রাম্প। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে তার প্রশাসন।

দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটকের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুনে ডিএইচএস জানায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করা হয়েছে। ডিএইচএসের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অভিযানটি শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও অভিযান আরও জোরদারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল বলেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনও কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইতালির বিমানবন্দরে দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা আটকা ফ্লাইট, ওষুধ লাগেজে থাকায় অসুস্থ অনেক যাত্রী

ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত

০৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

আপডেটের সময় : ০৫:২৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে দেশটিতে এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ।

আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড ছিল জুনে। ওই মাসে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসে আটকের নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার করেছেন ট্রাম্প। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে তার প্রশাসন।

দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটকের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুনে ডিএইচএস জানায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করা হয়েছে। ডিএইচএসের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অভিযানটি শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও অভিযান আরও জোরদারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল বলেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনও কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন

Share this news as a Photo Card