নিউইয়র্ক ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে তিনি এ সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানিয়েছিলেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জেলেনস্কি বলেছেন-‘এটি একেবারেই স্পষ্ট যে উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়াতে থাকবে, রাশিয়ার কাছ থেকে লাইসেন্স পাবে এবং তাদের কাছ থেকে সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণ গ্রহণ করবে।’

চলতি মাসে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। ওই ইউনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এসব সেনার মধ্যে হাজার হাজার নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে লাখ লাখ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে। এসব গোলার কিছু অংশের নিম্নমান নিয়ে রুশ সামরিক ব্লগার ও সেনাদের কেউ কেউ অভিযোগও করেছেন। এ ছাড়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি ও একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে পিয়ংইয়ং।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন ‘এমন একটি ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা পেতে খুবই আগ্রহী, যেখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে।’ এখানে তিনি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ড্রোন চুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য চুক্তি এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের কূটনীতিকেরা সিউলের সঙ্গে ‘যোগাযোগ রাখছেন।’

ইউক্রেনের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর ছাড়া এগুলো ভূপাতিত করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন যে অস্ত্রের প্যাকেজ কিনতে যাচ্ছে, তাতে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে মার্কিন উৎস থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র তুরস্কের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি করতে হলে ওয়াশিংটনের অনুমোদন প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, এ ধরনের অনুমোদন দিতে তারা প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী, এম৩৯ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস) এবং ২ হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা বিক্রির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৪৭

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় ইউক্রেন

আপডেটের সময় : ০৫:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে তিনি এ সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানিয়েছিলেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জেলেনস্কি বলেছেন-‘এটি একেবারেই স্পষ্ট যে উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়াতে থাকবে, রাশিয়ার কাছ থেকে লাইসেন্স পাবে এবং তাদের কাছ থেকে সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও উপকরণ গ্রহণ করবে।’

চলতি মাসে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। ওই ইউনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এসব সেনার মধ্যে হাজার হাজার নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে লাখ লাখ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে। এসব গোলার কিছু অংশের নিম্নমান নিয়ে রুশ সামরিক ব্লগার ও সেনাদের কেউ কেউ অভিযোগও করেছেন। এ ছাড়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি ও একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে পিয়ংইয়ং।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন ‘এমন একটি ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা পেতে খুবই আগ্রহী, যেখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে।’ এখানে তিনি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ড্রোন চুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য চুক্তি এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের কূটনীতিকেরা সিউলের সঙ্গে ‘যোগাযোগ রাখছেন।’

ইউক্রেনের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর ছাড়া এগুলো ভূপাতিত করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন যে অস্ত্রের প্যাকেজ কিনতে যাচ্ছে, তাতে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে মার্কিন উৎস থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র তুরস্কের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি করতে হলে ওয়াশিংটনের অনুমোদন প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, এ ধরনের অনুমোদন দিতে তারা প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী, এম৩৯ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস) এবং ২ হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা বিক্রির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক।

Share this news as a Photo Card