নিউইয়র্ক ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

  • আপডেটের সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাব্য এ সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নয়াদিল্লির বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন এবং কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। 

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে। কিন্তু সফরসংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই দিনের সম্ভাব্য এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে।

বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

প্রথমবার বৈঠকে বসতে পারেন তারেক-মোদি

তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

আলোচনায় থাকতে পারে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা বলার পরও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ভারতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়। তবে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বাণিজ্য, পানি ও সীমান্ত ইস্যুও গুরুত্ব পাবে

সম্ভাব্য বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্য।

পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা নবায়ন নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: রণধীর জয়সোয়াল

অলাভজনক সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে ইন্দোনেশিয়া

১৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

আপডেটের সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাব্য এ সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নয়াদিল্লির বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন এবং কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। 

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে। কিন্তু সফরসংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই দিনের সম্ভাব্য এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে।

বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

প্রথমবার বৈঠকে বসতে পারেন তারেক-মোদি

তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

আলোচনায় থাকতে পারে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা বলার পরও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ভারতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়। তবে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বাণিজ্য, পানি ও সীমান্ত ইস্যুও গুরুত্ব পাবে

সম্ভাব্য বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্য।

পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা নবায়ন নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card