নিউইয়র্ক ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরও দুই কূপ খননের পর শুরু হতে পারে মাদারগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন

  • আপডেটের সময় : ১২:০৩:৫৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মাদারগঞ্জে দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র জামালপুর-১-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। নতুন দুটি কূপে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা যাচাইয়ের পর গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাপেক্স জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথম কূপে দৈনিক গড়ে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও দুটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুদ নিশ্চিত হওয়ার পর উত্তোলন শুরু হবে। এরই মধ্যে নতুন দুটি কূপ খননের জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি কূপ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের তারতাপাড়ায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিসমিক উপাত্ত এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ক্লোজ গ্রিড সিসমিক সার্ভে করা হয়। এসব উপাত্ত বিশ্লেষণের পর ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ শুরু করে বাপেক্স।

কূপটির খননকাজ শেষ হওয়ার পর একই বছরের ১ জুন সেখানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্স সূত্র জানায়, ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা প্রথম কূপে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন চাপের গ্যাস পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

প্রাথমিক হিসাবে, ওই কূপ থেকে দৈনিক ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত মজুদ মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এ কূপ থেকে ১২ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে বাপেক্স সূত্র জানিয়েছে।

বাপেক্সের তথ্যমতে, ৫ দশমিক ৮৮৫ একর জমির ওপর জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রথম কূপে গ্যাস পাওয়ার পর আরও একটি অনুসন্ধানমূলক ও একটি উন্নয়নমূলক কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কূপের খননকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় সরবরাহ লাইনে যুক্ত করার বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

বাপেক্সের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাদারগঞ্জে গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর ওপারেও গ্যাসের সন্ধানে অনুসন্ধান চালানো যেতে পারে। উৎপাদিত গ্যাসের একটি অংশ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন কাজ থেমে থাকার পর আবারও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, গ্যাসক্ষেত্রটি চালু হলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি গ্যাস কূপ খনন করা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা আশা করি, এই প্রকল্পে এলাকার মানুষও সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আরও দুই কূপ খননের পর শুরু হতে পারে মাদারগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন

আপডেটের সময় : ১২:০৩:৫৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জে দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র জামালপুর-১-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। নতুন দুটি কূপে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা যাচাইয়ের পর গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাপেক্স জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথম কূপে দৈনিক গড়ে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও দুটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুদ নিশ্চিত হওয়ার পর উত্তোলন শুরু হবে। এরই মধ্যে নতুন দুটি কূপ খননের জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি কূপ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের তারতাপাড়ায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিসমিক উপাত্ত এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ক্লোজ গ্রিড সিসমিক সার্ভে করা হয়। এসব উপাত্ত বিশ্লেষণের পর ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ শুরু করে বাপেক্স।

কূপটির খননকাজ শেষ হওয়ার পর একই বছরের ১ জুন সেখানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্স সূত্র জানায়, ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা প্রথম কূপে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন চাপের গ্যাস পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

প্রাথমিক হিসাবে, ওই কূপ থেকে দৈনিক ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত মজুদ মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এ কূপ থেকে ১২ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে বাপেক্স সূত্র জানিয়েছে।

বাপেক্সের তথ্যমতে, ৫ দশমিক ৮৮৫ একর জমির ওপর জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রথম কূপে গ্যাস পাওয়ার পর আরও একটি অনুসন্ধানমূলক ও একটি উন্নয়নমূলক কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কূপের খননকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় সরবরাহ লাইনে যুক্ত করার বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

বাপেক্সের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাদারগঞ্জে গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর ওপারেও গ্যাসের সন্ধানে অনুসন্ধান চালানো যেতে পারে। উৎপাদিত গ্যাসের একটি অংশ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন কাজ থেমে থাকার পর আবারও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, গ্যাসক্ষেত্রটি চালু হলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি গ্যাস কূপ খনন করা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা আশা করি, এই প্রকল্পে এলাকার মানুষও সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

Share this news as a Photo Card