নিউইয়র্ক ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় দাফনের জায়গাও ফুরিয়ে যাচ্ছে

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪৪:২৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মৃতদের দাফনের জায়গারও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক কবরস্থান ধ্বংস হওয়ায় নিহতদের অনেককে এখন বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় দাফন করতে হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তার ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে কবরগুলো এত ঘন হয়ে গেছে যে নতুন করে দাফনের জন্য প্রায় কোনো জায়গাই অবশিষ্ট নেই। শেষ পর্যন্ত দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয় পরিবারটিকে।

যুদ্ধের কারণে অনেক কবরের পরিচয়ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও পাথর কিংবা কাগজে মৃত ব্যক্তির নাম লিখে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর সংকট থাকায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদা ও ঢেউটিন ব্যবহার করেও অস্থায়ী কবরের চিহ্ন তৈরি করা হচ্ছে।

গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর উপত্যকাটিতে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। এর আগে গাজায় থাকা প্রায় ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলোই পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে যুদ্ধের মধ্যে নতুন কবরের জায়গা খুঁজে বের করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে হাসপাতালের প্রাঙ্গণে তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় অস্থায়ী বিভিন্ন স্থানে দাফন করা অনেক মরদেহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিবারগুলো তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

খান ইউনিস কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা 

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

গাজায় দাফনের জায়গাও ফুরিয়ে যাচ্ছে

আপডেটের সময় : ০৭:৪৪:২৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মৃতদের দাফনের জায়গারও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক কবরস্থান ধ্বংস হওয়ায় নিহতদের অনেককে এখন বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় দাফন করতে হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তার ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে কবরগুলো এত ঘন হয়ে গেছে যে নতুন করে দাফনের জন্য প্রায় কোনো জায়গাই অবশিষ্ট নেই। শেষ পর্যন্ত দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয় পরিবারটিকে।

যুদ্ধের কারণে অনেক কবরের পরিচয়ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও পাথর কিংবা কাগজে মৃত ব্যক্তির নাম লিখে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর সংকট থাকায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদা ও ঢেউটিন ব্যবহার করেও অস্থায়ী কবরের চিহ্ন তৈরি করা হচ্ছে।

গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর উপত্যকাটিতে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। এর আগে গাজায় থাকা প্রায় ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলোই পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে যুদ্ধের মধ্যে নতুন কবরের জায়গা খুঁজে বের করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে হাসপাতালের প্রাঙ্গণে তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় অস্থায়ী বিভিন্ন স্থানে দাফন করা অনেক মরদেহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিবারগুলো তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

খান ইউনিস কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card