নিউইয়র্ক ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ওয়েন

  • আপডেটের সময় : ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরো গভীর হওয়া, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় অগ্রগতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উষ্ণ যোগাযোগের কারণে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ওয়েন বলেন, এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। এ সময় দুই দেশের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেন। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শক্তিশালী গতি এনেছে।

তার দায়িত্ব পালনের সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধ দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই জাতির নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জনগণের অসাধারণ দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নানা সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের অংশীদারত্ব তার প্রাণবন্ততা ধরে রেখেছে এবং সম্পর্ক অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সময়টি তার কূটনৈতিক জীবনের অত্যন্ত অর্থবহ একটি অধ্যায়। তিনি বলেন, এই ১ হাজার ৩০০ দিনেরও বেশি সময় আমার কূটনৈতিক জীবনের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার এই সময়ে আমার হূদয় গভীর টান ও বিচ্ছেদ-বেদনায় ভারাক্রান্ত।

আশাবাদ ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন বলেন, ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে। আমি পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, আমার হূদয় এই দেশের সঙ্গে এবং চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অগ্রযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ওয়েন

আপডেটের সময় : ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরো গভীর হওয়া, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় অগ্রগতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উষ্ণ যোগাযোগের কারণে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ওয়েন বলেন, এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। এ সময় দুই দেশের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেন। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শক্তিশালী গতি এনেছে।

তার দায়িত্ব পালনের সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধ দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই জাতির নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জনগণের অসাধারণ দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নানা সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের অংশীদারত্ব তার প্রাণবন্ততা ধরে রেখেছে এবং সম্পর্ক অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন উল্লেখ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সময়টি তার কূটনৈতিক জীবনের অত্যন্ত অর্থবহ একটি অধ্যায়। তিনি বলেন, এই ১ হাজার ৩০০ দিনেরও বেশি সময় আমার কূটনৈতিক জীবনের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার এই সময়ে আমার হূদয় গভীর টান ও বিচ্ছেদ-বেদনায় ভারাক্রান্ত।

আশাবাদ ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন বলেন, ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে। আমি পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, আমার হূদয় এই দেশের সঙ্গে এবং চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অগ্রযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকবে।

Share this news as a Photo Card