নিউইয়র্ক ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০টি আবেদনই ভুয়া

  • আপডেটের সময় : ০৬:২৫:০৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত দাবি করে জমা পড়া নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। এছাড়া প্রায় ৬০০ আবেদনে তথ্যগত অসংগতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন এবং শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদনসহ নানা ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যাচাই করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা মিলেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমানে তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০। নতুন ১ হাজার ৫৯০ জন যুক্ত হলে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো নতুন আবেদন জমা পড়ছে। যাচাইয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরও গেজেটভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, অসত্য তথ্য দিয়ে কেউ গেজেটভুক্ত হয়ে থাকলে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের শুরুর দিকে ‘জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা’দের গেজেট প্রকাশের পর নতুন করে অনেকেই আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে আবেদন করেন। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে আবেদন জমা পড়ে।

এর আগে প্রকাশিত গেজেটে কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়েছিল। নতুন করে এমন বিতর্ক এড়াতে এবার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএসভুক্তির কাজ চলমান এবং ২১০ জনের যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।

তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি প্রায় ৬০০ আবেদনের মধ্যে দুই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদন এবং অন্যান্য তথ্যগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, এসব আবেদনের মধ্যে আরও প্রায় ১০০টির সত্যতা মিলতে পারে।

যাচাইয়ে দেখা গেছে, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। কারও চিকিৎসার নথি মেলেনি, কারও দেওয়া ছবি বা তথ্য যাচাইয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের নামেও আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও ধরা পড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদেরই জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আবেদনগুলো কঠোরভাবে যাচাই করা হয়েছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যেন গেজেটভুক্ত হতে না পারেন, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং আবাসন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে আহতদের শ্রেণিভেদে এককালীন আর্থিক সহায়তা, মাসিক ভাতা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাচাই-বাছাই শেষে শুধু প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদেরই গেজেটভুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ তালিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকে।

সূত্র: সমকাল

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০টি আবেদনই ভুয়া

০৮ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০টি আবেদনই ভুয়া

আপডেটের সময় : ০৬:২৫:০৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত দাবি করে জমা পড়া নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। এছাড়া প্রায় ৬০০ আবেদনে তথ্যগত অসংগতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন এবং শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদনসহ নানা ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যাচাই করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা মিলেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমানে তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০। নতুন ১ হাজার ৫৯০ জন যুক্ত হলে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো নতুন আবেদন জমা পড়ছে। যাচাইয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরও গেজেটভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, অসত্য তথ্য দিয়ে কেউ গেজেটভুক্ত হয়ে থাকলে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের শুরুর দিকে ‘জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা’দের গেজেট প্রকাশের পর নতুন করে অনেকেই আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে আবেদন করেন। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে আবেদন জমা পড়ে।

এর আগে প্রকাশিত গেজেটে কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়েছিল। নতুন করে এমন বিতর্ক এড়াতে এবার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএসভুক্তির কাজ চলমান এবং ২১০ জনের যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।

তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি প্রায় ৬০০ আবেদনের মধ্যে দুই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদন এবং অন্যান্য তথ্যগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, এসব আবেদনের মধ্যে আরও প্রায় ১০০টির সত্যতা মিলতে পারে।

যাচাইয়ে দেখা গেছে, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। কারও চিকিৎসার নথি মেলেনি, কারও দেওয়া ছবি বা তথ্য যাচাইয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের নামেও আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও ধরা পড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদেরই জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আবেদনগুলো কঠোরভাবে যাচাই করা হয়েছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যেন গেজেটভুক্ত হতে না পারেন, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং আবাসন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে আহতদের শ্রেণিভেদে এককালীন আর্থিক সহায়তা, মাসিক ভাতা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাচাই-বাছাই শেষে শুধু প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদেরই গেজেটভুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ তালিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকে।

সূত্র: সমকাল

Share this news as a Photo Card