নিউইয়র্ক ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড

  • আপডেটের সময় : ০১:১০:৩০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো’ ভারতের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা ও তার লোকজনকে সংযত রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি কিছু চাইছি না। শেখ হাসিনা ও তার লোকজন দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তারা দিল্লিতে বসে আরেকটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এতে ভারতেরও কোনো লাভ হচ্ছে না।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তাকে ‘একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অতীতের সঙ্গে একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। কারণ, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের প্রক্রিয়ায় তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় এ আলোচনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঢাকার কাছে অগ্রাধিকার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, যেহেতু ভারত তাদের সংযত রাখার চেষ্টা করছে। এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক রীতি। যদি তাদের (হাসিনা ও তার লোকজন) নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তাহলে (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ‘বাধা’ হিসেবে বর্ণনা করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ভারতের হাইকমিশনার একটি ভালো ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করি, দিল্লি তার মতামত গ্রহণ করবে। তারা যদি তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে কিছু ‘পারস্পরিক আদান–প্রদান’ প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশ ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না এবং ভারতের কাছ থেকেও তিনি একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধান করা যেতে পারে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড

আপডেটের সময় : ০১:১০:৩০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো’ ভারতের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা ও তার লোকজনকে সংযত রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি কিছু চাইছি না। শেখ হাসিনা ও তার লোকজন দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তারা দিল্লিতে বসে আরেকটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এতে ভারতেরও কোনো লাভ হচ্ছে না।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তাকে ‘একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অতীতের সঙ্গে একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। কারণ, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের প্রক্রিয়ায় তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় এ আলোচনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঢাকার কাছে অগ্রাধিকার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, যেহেতু ভারত তাদের সংযত রাখার চেষ্টা করছে। এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক রীতি। যদি তাদের (হাসিনা ও তার লোকজন) নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তাহলে (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ‘বাধা’ হিসেবে বর্ণনা করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ভারতের হাইকমিশনার একটি ভালো ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করি, দিল্লি তার মতামত গ্রহণ করবে। তারা যদি তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে কিছু ‘পারস্পরিক আদান–প্রদান’ প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশ ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না এবং ভারতের কাছ থেকেও তিনি একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধান করা যেতে পারে।’

Share this news as a Photo Card