নিউইয়র্ক ০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ফুটবল ছেড়ো না’, নেইমারকে বাবার অনুরোধ

  • আপডেটের সময় : ০৫:২২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলের হারে শেষ ষোলোতেই থমকে গেল নেইমারের বিশ্বকাপ মিশন। একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ২০১১ সালে যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের হলুদ জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তার, দীর্ঘ দেড় দশক পর সেই একই মাঠে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন নেইমার

এই বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েই শঙ্কা ছিল। চোট আর অফ ফর্মের কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ব্রাজিল দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে ডাক পান কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে। কিন্তু ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের শেষটা হলো কান্নায়। ব্রাজিলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছুই নিশ্চিত করে বলেননি সান্তোস তারকা।

কোটি ভক্তের মতো নেইমারের বাবারও আশা, তার ছেলে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন। ইনস্টাগ্রামে নেইমার সিনিয়রের দীর্ঘ এক পোস্টে উঠে এসেছে সেই অনুরোধ।

নেইমারের বাবা সেই পোস্টে স্মৃতিচারণ করেন ছোটবেলার, ‘বিশাল একটা পথ আমরা পাড়ি দিলাম একসঙ্গে। বাধা ছিল, বিপত্তি ছিল, কষ্টও ছিল। কিন্তু পথচলায় ক্লান্তি ছিল না। এই তো সেদিনের কথা-সেই ছোট্ট ছেলেটা, পায়ে ফুটবল নিয়ে যে স্বপ্ন দেখত। ভাবতেও পারিনি ঈশ্বর তাকে এত দূর নিয়ে যাবেন, অল্প বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম, তোমার মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে।’

নেইমারের ফুটবল–যাত্রায় সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিলেন তার বাবা। সেই কথাও এসেছে দীর্ঘ চিঠিতে, ‘পুরো পথটার সঙ্গী ছিলাম আমি। তোমার প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, ফুটবলে অভিষেক-সবটা স্মৃতিতে অমলিন। সেখান থেকে তুমি বিশাল সব স্টেডিয়ামে গেলে, ট্রফি, বিদেশ ভ্রমণ, ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া-সবই দেখলাম। দেখলাম কেমন করে আমার ছেলেটা বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হলো। বাবা হিসেবে এর থেকে বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার।’

পোস্টে নেইমার সিনিয়রের অনুরোধ, ‘আমরা একসঙ্গে কেঁদেছি, হেসেছি, উদ্‌যাপন করেছি, আবার শিখেছিও। একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। কোনোটাই সম্ভব হতো না যদি ঈশ্বরের আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে না থাকত। তাই বাবা হিসেবে আমার একটা শেষ অনুরোধ-বাবা, তুমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও।’

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি নেইমারের। হারের পর বিদায়ের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দেন নেইমার, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের ‘লজ্জার’ রেকর্ড গড়লেন মেসি

০৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘ফুটবল ছেড়ো না’, নেইমারকে বাবার অনুরোধ

আপডেটের সময় : ০৫:২২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলের হারে শেষ ষোলোতেই থমকে গেল নেইমারের বিশ্বকাপ মিশন। একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ২০১১ সালে যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের হলুদ জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তার, দীর্ঘ দেড় দশক পর সেই একই মাঠে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন নেইমার

এই বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েই শঙ্কা ছিল। চোট আর অফ ফর্মের কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ব্রাজিল দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে ডাক পান কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে। কিন্তু ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের শেষটা হলো কান্নায়। ব্রাজিলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছুই নিশ্চিত করে বলেননি সান্তোস তারকা।

কোটি ভক্তের মতো নেইমারের বাবারও আশা, তার ছেলে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন। ইনস্টাগ্রামে নেইমার সিনিয়রের দীর্ঘ এক পোস্টে উঠে এসেছে সেই অনুরোধ।

নেইমারের বাবা সেই পোস্টে স্মৃতিচারণ করেন ছোটবেলার, ‘বিশাল একটা পথ আমরা পাড়ি দিলাম একসঙ্গে। বাধা ছিল, বিপত্তি ছিল, কষ্টও ছিল। কিন্তু পথচলায় ক্লান্তি ছিল না। এই তো সেদিনের কথা-সেই ছোট্ট ছেলেটা, পায়ে ফুটবল নিয়ে যে স্বপ্ন দেখত। ভাবতেও পারিনি ঈশ্বর তাকে এত দূর নিয়ে যাবেন, অল্প বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম, তোমার মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে।’

নেইমারের ফুটবল–যাত্রায় সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিলেন তার বাবা। সেই কথাও এসেছে দীর্ঘ চিঠিতে, ‘পুরো পথটার সঙ্গী ছিলাম আমি। তোমার প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, ফুটবলে অভিষেক-সবটা স্মৃতিতে অমলিন। সেখান থেকে তুমি বিশাল সব স্টেডিয়ামে গেলে, ট্রফি, বিদেশ ভ্রমণ, ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া-সবই দেখলাম। দেখলাম কেমন করে আমার ছেলেটা বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হলো। বাবা হিসেবে এর থেকে বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার।’

পোস্টে নেইমার সিনিয়রের অনুরোধ, ‘আমরা একসঙ্গে কেঁদেছি, হেসেছি, উদ্‌যাপন করেছি, আবার শিখেছিও। একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। কোনোটাই সম্ভব হতো না যদি ঈশ্বরের আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে না থাকত। তাই বাবা হিসেবে আমার একটা শেষ অনুরোধ-বাবা, তুমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও।’

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি নেইমারের। হারের পর বিদায়ের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দেন নেইমার, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’

Share this news as a Photo Card