নিউইয়র্ক ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সোয়াল

  • আপডেটের সময় : ০৫:০০:২৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী ভারত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দেশটির এই আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর, প্রত্যর্পণ ইস্যু, সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাসহ দ্বিপক্ষীয় নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি জয়সোয়াল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওসমান হাদির হত্যাকারী এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের হস্তান্তরে ঢাকার শর্তের বিষয়ে তিনি কথা বলেন। ভারতের এই মুখপাত্র জানান, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে তাদের আগের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের এই অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব আইনি ও প্রচলিত কাঠামোর আওতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং নিজেদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে বাড়তি জ্বালানি দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতের যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে, সেগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ এসেছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকেরা। এর সরাসরি উত্তর না দিয়ে মুখপাত্র কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ভারতীয় আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ সবার জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। ভারত এই যৌথ হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির লালকেল্লায় হামলায় জড়িত শক্তিগুলোর কথাও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিস্তার পানিবণ্টন এবং এই প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বিষয়টিও ব্রিফিংয়ে উঠে আসে। বাংলাদেশ আলাদাভাবে তিস্তা নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখিয়েছে কি না অথবা চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ভারত ঢাকার কাছে কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি জয়সোয়াল। তবে তিনি দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ইস্যুতে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার ওপরই সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

Coronavirus disease 2019

ইমরান খানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার দাবি পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্টের

১৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সোয়াল

আপডেটের সময় : ০৫:০০:২৬ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী ভারত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দেশটির এই আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর, প্রত্যর্পণ ইস্যু, সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাসহ দ্বিপক্ষীয় নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি জয়সোয়াল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওসমান হাদির হত্যাকারী এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের হস্তান্তরে ঢাকার শর্তের বিষয়ে তিনি কথা বলেন। ভারতের এই মুখপাত্র জানান, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে তাদের আগের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের এই অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব আইনি ও প্রচলিত কাঠামোর আওতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং নিজেদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে বাড়তি জ্বালানি দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতের যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে, সেগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ এসেছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকেরা। এর সরাসরি উত্তর না দিয়ে মুখপাত্র কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ভারতীয় আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ সবার জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। ভারত এই যৌথ হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির লালকেল্লায় হামলায় জড়িত শক্তিগুলোর কথাও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিস্তার পানিবণ্টন এবং এই প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বিষয়টিও ব্রিফিংয়ে উঠে আসে। বাংলাদেশ আলাদাভাবে তিস্তা নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখিয়েছে কি না অথবা চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ভারত ঢাকার কাছে কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি জয়সোয়াল। তবে তিনি দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ইস্যুতে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার ওপরই সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।

Share this news as a Photo Card