নিউইয়র্ক ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো’

  • আপডেটের সময় : ১২:২২:০৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলে আইনি বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো বলে নিজের জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এ মামলায় তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট সাক্ষ্যের জন্য আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন সকাল থেকে ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখনই জনসম্মুখে আসতো, তখন ওই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য লোক দেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্ত করা হতো। প্রকৃত অপরাধীরা যেন আড়ালেই থেকে যান, সেজন্য নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্ত ব্যবহার করা হতো।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে কর্মকর্তাদের মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা।

প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন আংশিক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে এরই মধ্যে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কোথায় কোথায় গেছেন, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং সেসব কীভাবে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন রফিকুল ইসলাম।

এর আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর জিয়াউলের মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তকালে বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো— ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।

দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময় হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খাল ঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।

তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ, দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া।

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু, পোস্ট দিয়ে মাস্কের উচ্ছ্বাস

নওগাঁয় চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো’

আপডেটের সময় : ১২:২২:০৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলে আইনি বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো বলে নিজের জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এ মামলায় তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট সাক্ষ্যের জন্য আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন সকাল থেকে ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখনই জনসম্মুখে আসতো, তখন ওই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য লোক দেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্ত করা হতো। প্রকৃত অপরাধীরা যেন আড়ালেই থেকে যান, সেজন্য নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্ত ব্যবহার করা হতো।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে কর্মকর্তাদের মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা।

প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন আংশিক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে এরই মধ্যে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কোথায় কোথায় গেছেন, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং সেসব কীভাবে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন রফিকুল ইসলাম।

এর আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর জিয়াউলের মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তকালে বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো— ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।

দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময় হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খাল ঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।

তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ, দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া।

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

Share this news as a Photo Card