নিউইয়র্ক ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভিন্ন মাদক মিশিয়ে বানানো ‘ঝাক্কাস’ সেবনে তরুণের মৃত্যু, ৪ জন হাসপাতালে

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৬:৫৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে দেশি-বিদেশি মদের সঙ্গে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামক পানীয় সেবন করে মো. সাকিব (২২) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও চারজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বাকি দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর (হাপারগোড়া) গ্রামের মুসলিম কলোনির মিলনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. সাকিব ওই কলোনির মৃত এফরান মিয়ার ছেলে। অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে মো. টিপু (২৫) ও সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন মো. মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মো. রাসেল (২৫) বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাদিরহানিফ ইউনিয়নের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে হাপারগোড়া এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধুসহ কয়েকজন তরুণ মিলনের বাড়িতে মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে আনন্দ-ফুর্তির একপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অ্যালকোহল একসঙ্গে মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি উচ্চমাত্রার মিশ্রণ প্রস্তুত করে তা সেবন করেন তারা। পার্টি শেষে যে যার বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর একে একে সবাই তীব্র বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে পরিবারগুলো স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে রাতেই তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাকিবকে রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, বিষাক্ত ও ভেজাল মদপানের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিরা হাসপাতালে এসেছিলেন। সেখানে কয়েকজনের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে এবং জটিল রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানান, একাধিক মাদক মিশিয়ে বিষাক্ত পানীয় সেবনেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। পুলিশ সকালে সাকিবের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিভিন্ন মাদক মিশিয়ে বানানো ‘ঝাক্কাস’ সেবনে তরুণের মৃত্যু, ৪ জন হাসপাতালে

আপডেটের সময় : ১২:৫৬:৫৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে দেশি-বিদেশি মদের সঙ্গে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামক পানীয় সেবন করে মো. সাকিব (২২) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও চারজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বাকি দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর (হাপারগোড়া) গ্রামের মুসলিম কলোনির মিলনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. সাকিব ওই কলোনির মৃত এফরান মিয়ার ছেলে। অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে মো. টিপু (২৫) ও সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন মো. মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মো. রাসেল (২৫) বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাদিরহানিফ ইউনিয়নের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে হাপারগোড়া এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধুসহ কয়েকজন তরুণ মিলনের বাড়িতে মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে আনন্দ-ফুর্তির একপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অ্যালকোহল একসঙ্গে মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি উচ্চমাত্রার মিশ্রণ প্রস্তুত করে তা সেবন করেন তারা। পার্টি শেষে যে যার বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর একে একে সবাই তীব্র বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে পরিবারগুলো স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে রাতেই তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাকিবকে রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, বিষাক্ত ও ভেজাল মদপানের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিরা হাসপাতালে এসেছিলেন। সেখানে কয়েকজনের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে এবং জটিল রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানান, একাধিক মাদক মিশিয়ে বিষাক্ত পানীয় সেবনেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। পুলিশ সকালে সাকিবের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Share this news as a Photo Card