নিউইয়র্ক ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

  • আপডেটের সময় : ১২:২১:১০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনা হয় বিএস-১-এর। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় সংঘর্ষের শঙ্কা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্পেস ট্র্যাকার জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে একটি মহাকাশ বর্জ্য এগিয়ে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে তৎপর হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা বড় কোনো বস্তুর সংঘর্ষ হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। ২০০৯ সালে এমন এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সচল স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার একটি নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়েছিল।

বিএস-১-এর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চালান প্রকৌশলীরা। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বিএস-১।

শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে বিএস-১-কে পাশ কাটিয়ে যায় মহাকাশ বর্জ্যটি। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।

বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মহাকাশে স্যাটেলাইট পরিচালনা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু, পোস্ট দিয়ে মাস্কের উচ্ছ্বাস

নওগাঁয় চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারতের স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

আপডেটের সময় : ১২:২১:১০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনা হয় বিএস-১-এর। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় সংঘর্ষের শঙ্কা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্পেস ট্র্যাকার জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে একটি মহাকাশ বর্জ্য এগিয়ে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে তৎপর হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা বড় কোনো বস্তুর সংঘর্ষ হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। ২০০৯ সালে এমন এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সচল স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার একটি নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়েছিল।

বিএস-১-এর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চালান প্রকৌশলীরা। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বিএস-১।

শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে বিএস-১-কে পাশ কাটিয়ে যায় মহাকাশ বর্জ্যটি। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।

বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মহাকাশে স্যাটেলাইট পরিচালনা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card