নিউইয়র্ক ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

  • আপডেটের সময় : ১১:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পোর্ট অ্যাকসেস সড়ক নির্মাণে মহেশখালী চ্যানেলের নির্দিষ্ট অংশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের এ–সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রোববার (৪ অক্টোবর) এ আদেশ দেন।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) আওতায় ‘মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাকসেস রোড’ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও–এমআইএল (জেভি)–কে মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কিছু শর্ত সাপেক্ষে গত ২ এপ্রিল এ অনুমোদন দেয়। এ নিয়ে মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন হাইকোর্টে রিট করেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় মাতারবাড়ী প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়েছিল।’

চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই, বলেছেন তিনি।

এর আগে জনস্বার্থে মহেশখালী চ্যানেলের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গেল ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনায় রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত চার মাসের জন্য মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে খননের মাধ্যমে বালু উত্তোলন থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে বলা হয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন আদালত।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী।

রিট আবেদনে বলা হয়, মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ‘টোকিও-ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এমআইএল) জেভি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

তবে অনুমতির শর্ত অমান্য করে মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় এলাকার মোহনা এবং বাঁকখালী খালের মোহনা থেকে খননের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ও আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে চেম্বার আদালতে যায় রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার তাদের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করল।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

আপডেটের সময় : ১১:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পোর্ট অ্যাকসেস সড়ক নির্মাণে মহেশখালী চ্যানেলের নির্দিষ্ট অংশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের এ–সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রোববার (৪ অক্টোবর) এ আদেশ দেন।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) আওতায় ‘মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাকসেস রোড’ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও–এমআইএল (জেভি)–কে মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কিছু শর্ত সাপেক্ষে গত ২ এপ্রিল এ অনুমোদন দেয়। এ নিয়ে মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন হাইকোর্টে রিট করেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় মাতারবাড়ী প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়েছিল।’

চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই, বলেছেন তিনি।

এর আগে জনস্বার্থে মহেশখালী চ্যানেলের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গেল ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনায় রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত চার মাসের জন্য মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে খননের মাধ্যমে বালু উত্তোলন থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে বলা হয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন আদালত।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী।

রিট আবেদনে বলা হয়, মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ‘টোকিও-ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এমআইএল) জেভি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

তবে অনুমতির শর্ত অমান্য করে মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় এলাকার মোহনা এবং বাঁকখালী খালের মোহনা থেকে খননের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ও আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে চেম্বার আদালতে যায় রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার তাদের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করল।

Share this news as a Photo Card