নিউইয়র্ক ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেলের আয় বাড়াতে ট্রেনে বাড়ছে কোচ

  • আপডেটের সময় : ১১:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যাত্রীচাহিদা বেশি-এমন বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর ফলে একদিকে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে টিকিট বিক্রি বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত যাত্রীচাপ বেশি-এমন আন্তঃনগর ট্রেনগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কোচ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চাহিদার তুলনায় আসন কম: রেলওয়ে সূত্র জানায়, ব্যস্ত রুটে চলাচলকারী অনেক ট্রেনে আসনসংখ্যার তুলনায় টিকিটের চাহিদা বেশি। ছুটির দিন ও উৎসবের সময় এ চাপ আরো বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ট্রেনের ভেতরেও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। রেলওয়ের পরিকল্পনা হলো-যেসব ট্রেনে নিয়মিতভাবে আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রীচাহিদা বেশি, সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা। এতে নতুন ট্রেন চালুর অপেক্ষা না করেই বিদ্যমান সেবার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। 

যাত্রী বাড়লেই বাড়বে রাজস্ব রেলের আয় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু যাত্রী পরিবহন খাতেই আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীচাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোচের স্বল্পতার কারণে আসন বরাদ্দ দেওয়া না গেলে সম্ভাব্য রাজস্ব হারাতে হয়। তাই চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হলে একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও আয়-উভয় ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে।

কোচ-সংকটই বড় বাধা: তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় কোচের ঘাটতি। পুরোনো কোচের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বিভিন্ন সময়ে কোচ প্রত্যাহার করতে হয়। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন সম্ভব হয় না। নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কোচ বহরে যুক্ত হলে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে কোচ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হবে।

আয় বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ: ২০২৬-২৭অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রেলের বিভিন্ন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনা সভায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী পরিচালনা, স্ক্র্যাপের দরপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউটার/লোকাল/মেইল ট্রেন লিজ এবং নবনির্মিত স্টেশনে দোকান বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া জয়দেবপুর কমিউটার, অভিযাত্রী কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা ও আয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূসম্পত্তি বিভাগের আয় হিসাব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পর্যালোচনাসভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, রুটভিত্তিক যাত্রীচাহিদা বিশ্লেষণ করে সঠিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা গেলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের তুলনায় দ্রুত যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রেলের আয় বাড়াতে ট্রেনে বাড়ছে কোচ

আপডেটের সময় : ১১:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

যাত্রীচাহিদা বেশি-এমন বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর ফলে একদিকে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে টিকিট বিক্রি বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত যাত্রীচাপ বেশি-এমন আন্তঃনগর ট্রেনগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কোচ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চাহিদার তুলনায় আসন কম: রেলওয়ে সূত্র জানায়, ব্যস্ত রুটে চলাচলকারী অনেক ট্রেনে আসনসংখ্যার তুলনায় টিকিটের চাহিদা বেশি। ছুটির দিন ও উৎসবের সময় এ চাপ আরো বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ট্রেনের ভেতরেও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। রেলওয়ের পরিকল্পনা হলো-যেসব ট্রেনে নিয়মিতভাবে আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রীচাহিদা বেশি, সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা। এতে নতুন ট্রেন চালুর অপেক্ষা না করেই বিদ্যমান সেবার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। 

যাত্রী বাড়লেই বাড়বে রাজস্ব রেলের আয় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু যাত্রী পরিবহন খাতেই আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীচাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোচের স্বল্পতার কারণে আসন বরাদ্দ দেওয়া না গেলে সম্ভাব্য রাজস্ব হারাতে হয়। তাই চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হলে একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও আয়-উভয় ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে।

কোচ-সংকটই বড় বাধা: তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় কোচের ঘাটতি। পুরোনো কোচের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বিভিন্ন সময়ে কোচ প্রত্যাহার করতে হয়। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন সম্ভব হয় না। নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কোচ বহরে যুক্ত হলে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে কোচ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হবে।

আয় বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ: ২০২৬-২৭অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রেলের বিভিন্ন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনা সভায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী পরিচালনা, স্ক্র্যাপের দরপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউটার/লোকাল/মেইল ট্রেন লিজ এবং নবনির্মিত স্টেশনে দোকান বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া জয়দেবপুর কমিউটার, অভিযাত্রী কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা ও আয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূসম্পত্তি বিভাগের আয় হিসাব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পর্যালোচনাসভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, রুটভিত্তিক যাত্রীচাহিদা বিশ্লেষণ করে সঠিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা গেলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের তুলনায় দ্রুত যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

Share this news as a Photo Card