নিউইয়র্ক ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হামাস নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের বৈঠক

  • আপডেটের সময় : ০৩:৫১:৫৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার হামাসের নেতাদের সঙ্গে মিসরে বৈঠক করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) আল-জাজিরাকে এক ফিলিস্তিনি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, মিসরের আলামেইন শহরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হায়া উপস্থিত ছিলেন। কুশনারের সঙ্গে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি এবং তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত শান্তি পর্ষদের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠকে হামাস নেতারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন। কুশনার জানান, গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না। আলোচনায় গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর এবং ভবিষ্যতে গাজা প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়গুলো উঠে আসে। হামাসকে অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানানো হয়।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলেছে। তবে ইসরায়েল এ ধাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। সংগঠনটি ইসরায়েলকে প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণ, হামলা বন্ধ এবং পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছে। তবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আশায় ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ মতপার্থক্য কমাতেই কুশনার ইসরায়েল ও মিসর সফর করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ সোমবার কুশনার ও ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

এদিকে ইসরায়েলের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের নিন্দা জানিয়েছেন মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁরা ইসরায়েলকে পরিকল্পনা মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল খান ইউনিসে একটি তাবুতে হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

১৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হামাস নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের বৈঠক

আপডেটের সময় : ০৩:৫১:৫৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার হামাসের নেতাদের সঙ্গে মিসরে বৈঠক করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) আল-জাজিরাকে এক ফিলিস্তিনি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, মিসরের আলামেইন শহরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হায়া উপস্থিত ছিলেন। কুশনারের সঙ্গে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি এবং তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত শান্তি পর্ষদের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠকে হামাস নেতারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন। কুশনার জানান, গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না। আলোচনায় গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর এবং ভবিষ্যতে গাজা প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়গুলো উঠে আসে। হামাসকে অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানানো হয়।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলেছে। তবে ইসরায়েল এ ধাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। সংগঠনটি ইসরায়েলকে প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণ, হামলা বন্ধ এবং পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছে। তবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আশায় ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ মতপার্থক্য কমাতেই কুশনার ইসরায়েল ও মিসর সফর করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ সোমবার কুশনার ও ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

এদিকে ইসরায়েলের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের নিন্দা জানিয়েছেন মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁরা ইসরায়েলকে পরিকল্পনা মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল খান ইউনিসে একটি তাবুতে হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card