নিউইয়র্ক ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ করতে গিয়ে ভিক্ষা করবেন না, পাকিস্তানি নাগরিকদের সতর্ক করল দূতাবাস

  • আপডেটের সময় : ০৯:০২:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে হজ ও ওমরাহ করতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন না করতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে পাকিস্তান। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে গ্রেপ্তার, আটক ও সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস।

রোববার (১৬ আগস্ট) সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করে।

দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে পাকিস্তান থেকে আসা সব ওমরাহযাত্রী ও কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের পর একজনকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানায় দূতাবাস।

দূতাবাস বলেছে, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার আশপাশে ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাই পাকিস্তানি নাগরিকদের কোনো অননুমোদিত স্থানীয় সেবা গ্রহণ বা প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। আর্থিক সহায়তা বা অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই বৈধ পদ্ধতিতে করতে হবে।

এ ছাড়া ভিসার মেয়াদ ও শর্ত মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে দূতাবাস। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদি আরবে অবস্থান না করা এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের বাইরে কোনো কাজে জড়িত না হওয়ার জন্য নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়ানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এ সমস্যা ঠেকাতে পাকিস্তান এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। হজে যাওয়ার আগে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াবেন না এমন মুচলেকা নেওয়ার পরও কিছু নাগরিক সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ পাকিস্তানি নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পাকিস্তান সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছে বলেও জানা গেছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্তেও ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব চক্র দরিদ্র মানুষকে হজ বা ওমরাহর ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা করে সৌদি আরবে পাঠায় এবং সেখানে ভিক্ষা করে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তান ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েক হাজার ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈধভাবে হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য যেন এ ধরনের ঘটনা সমস্যা তৈরি না করে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পাকিস্তান দূতাবাস নতুন করে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিলেন জয়সওয়াল

নেপালের জেনারেল হলেন ভারতের সেনাপ্রধান

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হজ করতে গিয়ে ভিক্ষা করবেন না, পাকিস্তানি নাগরিকদের সতর্ক করল দূতাবাস

আপডেটের সময় : ০৯:০২:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে হজ ও ওমরাহ করতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন না করতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে পাকিস্তান। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে গ্রেপ্তার, আটক ও সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস।

রোববার (১৬ আগস্ট) সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করে।

দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে পাকিস্তান থেকে আসা সব ওমরাহযাত্রী ও কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের পর একজনকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানায় দূতাবাস।

দূতাবাস বলেছে, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার আশপাশে ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাই পাকিস্তানি নাগরিকদের কোনো অননুমোদিত স্থানীয় সেবা গ্রহণ বা প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। আর্থিক সহায়তা বা অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই বৈধ পদ্ধতিতে করতে হবে।

এ ছাড়া ভিসার মেয়াদ ও শর্ত মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে দূতাবাস। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদি আরবে অবস্থান না করা এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের বাইরে কোনো কাজে জড়িত না হওয়ার জন্য নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়ানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এ সমস্যা ঠেকাতে পাকিস্তান এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। হজে যাওয়ার আগে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াবেন না এমন মুচলেকা নেওয়ার পরও কিছু নাগরিক সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ পাকিস্তানি নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পাকিস্তান সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছে বলেও জানা গেছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্তেও ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব চক্র দরিদ্র মানুষকে হজ বা ওমরাহর ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা করে সৌদি আরবে পাঠায় এবং সেখানে ভিক্ষা করে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তান ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েক হাজার ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈধভাবে হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য যেন এ ধরনের ঘটনা সমস্যা তৈরি না করে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পাকিস্তান দূতাবাস নতুন করে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।

Share this news as a Photo Card