নিউইয়র্ক ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ কোটি টাকার খাস জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

  • আপডেটের সময় : ১২:০৫:৪৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে তিন তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে। 

অভিযুক্ত জামায়াত নেতার নাম মো. আবু তালেব হোসাইন। তিনি কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দীনের ছেলে এবং চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।

জানা যায়, আবু তালেব হোসাইন উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজায় অবস্থিত সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত (খ-তফসিলভুক্ত) প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে নিয়মনীতি অমান্য করে পাকা তিনতলা ভবন নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলতি বছরের মে মাস থেকে বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু তালেব। 

স্থানীয়রা জানান, এই জমি নিয়ে এক বার মামলা হয়েছিল। এরপর এর রায় হয়েছিল। তাতে জমিটি খাস হিসেবে ছিল। এরপর আফিল উদ্দীনের উত্তরসূরিরা বাড়িঘর করতেছে। ইনটা চরের ভেতরে সব জমি খাস। একটা জমিও খাস ছাড়া নেই। সব এক রেকর্ড বা দুই রেকর্ড। 

স্থানয়ি এক বাসিন্দা জানান, জমিটি মূলত খাস। আমরা ছোটবেলা থেকে এমন দেখে আসছি। কিন্তু ওনি লোকজন নিয়ে এসে কাজ করা শুরু করেছে। অথচ খাস জমিতে বাড়ি করা অবৈধ।

ভূমি অফিসের তথ্যমতে, গোবিন্দপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৬৪ নম্বর দাগে সরকারের খ তফসিলভুক্ত প্রায় দুই একর ৮২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এই জমি নিজের দাবি করে ২০১৮ সালে প্রথম কুষ্টিয়ার কুমারখালি জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তালেব হোসাইন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৈধ কাগজ না থাকায় ২০২৪ সালের ৫ মে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৯৮/২০২৮ বিনা খরচায় খারিজ করে দেন সহকারী জজ মো. মেহেদী হাসান। মামলা খারিজের পর ফের আপিল করেন ওই জামায়াত নেতা। আপিল নম্বর ১১৭/২৪। বর্তমানে মামলটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে বাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আবু তালেব।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব হোসাইন জমিটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে বলেন, এটাতে আমার আরএস রেকর্ড হয়নি। আমার বিএস রেকর্ড আছে। এটা বিচারাধীন এখন। আরএস সংশোধনীর জন্য আমরা মামলা করেছি। মামলা চলতেছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, খাস জমিতে বাড়ির নির্মাণের সুযোগ নেই। জায়গাটির মালিকানা ও আইনি অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত। জনবল সংকটের কারণে মাপের কাজ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই আনইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৬ কোটি টাকার খাস জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

আপডেটের সময় : ১২:০৫:৪৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে তিন তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে। 

অভিযুক্ত জামায়াত নেতার নাম মো. আবু তালেব হোসাইন। তিনি কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দীনের ছেলে এবং চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।

জানা যায়, আবু তালেব হোসাইন উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজায় অবস্থিত সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত (খ-তফসিলভুক্ত) প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে নিয়মনীতি অমান্য করে পাকা তিনতলা ভবন নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলতি বছরের মে মাস থেকে বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু তালেব। 

স্থানীয়রা জানান, এই জমি নিয়ে এক বার মামলা হয়েছিল। এরপর এর রায় হয়েছিল। তাতে জমিটি খাস হিসেবে ছিল। এরপর আফিল উদ্দীনের উত্তরসূরিরা বাড়িঘর করতেছে। ইনটা চরের ভেতরে সব জমি খাস। একটা জমিও খাস ছাড়া নেই। সব এক রেকর্ড বা দুই রেকর্ড। 

স্থানয়ি এক বাসিন্দা জানান, জমিটি মূলত খাস। আমরা ছোটবেলা থেকে এমন দেখে আসছি। কিন্তু ওনি লোকজন নিয়ে এসে কাজ করা শুরু করেছে। অথচ খাস জমিতে বাড়ি করা অবৈধ।

ভূমি অফিসের তথ্যমতে, গোবিন্দপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৬৪ নম্বর দাগে সরকারের খ তফসিলভুক্ত প্রায় দুই একর ৮২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এই জমি নিজের দাবি করে ২০১৮ সালে প্রথম কুষ্টিয়ার কুমারখালি জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তালেব হোসাইন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৈধ কাগজ না থাকায় ২০২৪ সালের ৫ মে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৯৮/২০২৮ বিনা খরচায় খারিজ করে দেন সহকারী জজ মো. মেহেদী হাসান। মামলা খারিজের পর ফের আপিল করেন ওই জামায়াত নেতা। আপিল নম্বর ১১৭/২৪। বর্তমানে মামলটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে বাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আবু তালেব।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব হোসাইন জমিটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে বলেন, এটাতে আমার আরএস রেকর্ড হয়নি। আমার বিএস রেকর্ড আছে। এটা বিচারাধীন এখন। আরএস সংশোধনীর জন্য আমরা মামলা করেছি। মামলা চলতেছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, খাস জমিতে বাড়ির নির্মাণের সুযোগ নেই। জায়গাটির মালিকানা ও আইনি অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত। জনবল সংকটের কারণে মাপের কাজ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই আনইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card