নিউইয়র্ক ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলে থাকা ঘর ফের তলিয়ে গেছে

  • আপডেটের সময় : ০৩:৩৭:৪৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের অভ্যন্তরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শরণার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে টানা ও থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির কারণে উখিয়ার ৮ ডব্লিউ ক্যাম্প এবং টেকনাফের আলীখালী, জাদিমুড়াসহ একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। রোববারও থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন একাধিক ক্যাম্পের শরণার্থী পরিবার।

ক্যাম্প-৮ডব্লিউ-এর রোহিঙ্গা শরণার্থী আজিম উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলে পানি নেমে যায়, কিন্তু ভারী বৃষ্টি শুরু হলেই আবার ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বসতঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। অনেক ঘরে এখন আর বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরেক রোহিঙ্গা মো. ইসমাইল জানান, একটানা ভারী বর্ষণের কারণে ক্যাম্প-৮ডব্লিউ ব্লক এ-৩২-এর পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে এবং কিছু স্থানে পাহাড়ি ঢল ও কাদামাটির কারণে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার অসুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।আলীখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শরণার্থী আলী হোসেন বলেন, ভারী বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যায়। পানি সহজে বের হতে পারে না। ক্যাম্পের ভেতরের ড্রেন ও নালাগুলো বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পানি সরে যেতে দেরি হয়। ফলে অনেক বসতঘর ও চলাচলের পথ দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে, এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলে থাকা অনেক রোহিঙ্গা পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমে গেলে এসব এলাকার পানি ধীরে ধীরে নেমে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমলে যেসব ঘরবাড়ি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেখান থেকেও পানি সরে যাবে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায়ও এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এপিবিএন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

২৯০ কিমি গতির সুপার টাইফুনের আঘাত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল, এম্বোলোর লাল কার্ডে সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা: স্কালোনি

১২ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলে থাকা ঘর ফের তলিয়ে গেছে

আপডেটের সময় : ০৩:৩৭:৪৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের অভ্যন্তরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শরণার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে টানা ও থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির কারণে উখিয়ার ৮ ডব্লিউ ক্যাম্প এবং টেকনাফের আলীখালী, জাদিমুড়াসহ একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। রোববারও থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন একাধিক ক্যাম্পের শরণার্থী পরিবার।

ক্যাম্প-৮ডব্লিউ-এর রোহিঙ্গা শরণার্থী আজিম উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলে পানি নেমে যায়, কিন্তু ভারী বৃষ্টি শুরু হলেই আবার ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বসতঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। অনেক ঘরে এখন আর বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরেক রোহিঙ্গা মো. ইসমাইল জানান, একটানা ভারী বর্ষণের কারণে ক্যাম্প-৮ডব্লিউ ব্লক এ-৩২-এর পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে এবং কিছু স্থানে পাহাড়ি ঢল ও কাদামাটির কারণে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার অসুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।আলীখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শরণার্থী আলী হোসেন বলেন, ভারী বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যায়। পানি সহজে বের হতে পারে না। ক্যাম্পের ভেতরের ড্রেন ও নালাগুলো বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পানি সরে যেতে দেরি হয়। ফলে অনেক বসতঘর ও চলাচলের পথ দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে, এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলে থাকা অনেক রোহিঙ্গা পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমে গেলে এসব এলাকার পানি ধীরে ধীরে নেমে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমলে যেসব ঘরবাড়ি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেখান থেকেও পানি সরে যাবে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায়ও এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এপিবিএন।

Share this news as a Photo Card