নিউইয়র্ক ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • আপডেটের সময় : ০২:৩০:৪৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন আহত পাইলট। পরে কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন এবং বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি দুবাই থেকে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো বিমানে বড় কোনো বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, হামামিই তাকে আক্রমণ করছেন। তখন তিনি ভাবেন, ‘আমি যদি এটা না করি, তাহলে আমি মারা যাব।’

হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল।

সিবিএস নিউজ জানায়, আঘাতে মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এর মধ্যেই তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন।

ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে তাকে নিজেকেই কিছু করতে হবে।

শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে সরিয়ে দেন।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। তিনি হামামিকে গলা ধরে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন।

হামামিকে সরানোর পর হায়ুন দেখতে পান, বিমানটি মাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি কন্ট্রোল ধরে বিমানটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার-পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে।

এদিকে হামামির অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল হামামিকে। তবে এই তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না।

এদিকে দেশটির কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই ঘটনাটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন হামামি বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে এ ঘটনার পর বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই নতুন করে খতিয়ে দেখছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

নিউইয়র্ক থেকে ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করল যুক্তরাষ্ট্র

০৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেটের সময় : ০২:৩০:৪৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন আহত পাইলট। পরে কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন এবং বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি দুবাই থেকে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো বিমানে বড় কোনো বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, হামামিই তাকে আক্রমণ করছেন। তখন তিনি ভাবেন, ‘আমি যদি এটা না করি, তাহলে আমি মারা যাব।’

হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল।

সিবিএস নিউজ জানায়, আঘাতে মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এর মধ্যেই তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন।

ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে তাকে নিজেকেই কিছু করতে হবে।

শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে সরিয়ে দেন।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। তিনি হামামিকে গলা ধরে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন।

হামামিকে সরানোর পর হায়ুন দেখতে পান, বিমানটি মাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি কন্ট্রোল ধরে বিমানটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার-পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে।

এদিকে হামামির অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল হামামিকে। তবে এই তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না।

এদিকে দেশটির কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই ঘটনাটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন হামামি বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে এ ঘটনার পর বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই নতুন করে খতিয়ে দেখছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

Share this news as a Photo Card