নিউইয়র্ক ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাসিয়ামারা নদীর ভাঙনে অস্তিত্বসংকটে তিন গ্রাম

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪৬:২০ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে টেংরাটিলা উত্তর পশ্চিম, আলীপুর ও টিলাগাঁও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে গ্রামগুলোর বড় একটি অংশ ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই তীর ধসে পড়ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি । বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে । স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই নদী আমাদের জমি ও বসতভিটা গিলে খাচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’

ভাঙনকবলিত মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি । যে কোনো সময় আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে যেতে পারে। দ্রুত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত নদী তীর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে তিনটি গ্রাম রক্ষা পাবে ।

এলাকাবাসীর দাবি—জরুরিভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে ব্লক ফেলা, জিওব্যাগ স্থাপন অথবা টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে টেংরাটিলা উত্তর পশ্চিম, আলীপুর ও টিলাগাঁও গ্রাম এক সময় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। তারা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

খাসিয়ামারা নদীর ভাঙনে অস্তিত্বসংকটে তিন গ্রাম

আপডেটের সময় : ০৪:৪৬:২০ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে টেংরাটিলা উত্তর পশ্চিম, আলীপুর ও টিলাগাঁও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে গ্রামগুলোর বড় একটি অংশ ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই তীর ধসে পড়ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি । বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে । স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই নদী আমাদের জমি ও বসতভিটা গিলে খাচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’

ভাঙনকবলিত মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি । যে কোনো সময় আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে যেতে পারে। দ্রুত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত নদী তীর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে তিনটি গ্রাম রক্ষা পাবে ।

এলাকাবাসীর দাবি—জরুরিভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে ব্লক ফেলা, জিওব্যাগ স্থাপন অথবা টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে টেংরাটিলা উত্তর পশ্চিম, আলীপুর ও টিলাগাঁও গ্রাম এক সময় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। তারা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card