নিউইয়র্ক ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়তে প্রতিটি পরিবারের সচেতনতা জরুরি: রাষ্ট্রপতি

  • আপডেটের সময় : ১২:৩১:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগপরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে আগাম সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিটি ঘরকেই দুর্যোগ মোকাবিলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। দুর্যোগের প্রথম আঘাত যেহেতু পরিবার ও বাসাবাড়ির ওপর আসে, তাই দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব। সম্প্রতি নেপালে হিমবাহধসে হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি দেশের জীবন-জীবিকা কতটা তছনছ করে দিতে পারে, তা নেপালের ঘটনাই প্রমাণ করে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধি এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে বাংলাদেশের ভূমিকা একেবারেই নগণ্য হলেও এর সবচেয়ে বড় শিকার হতে হচ্ছে এ দেশের মানুষকে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের এক বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অনেক বাড়লেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সম্মুখসারির যোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নেই। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অব্যবস্থাপনার কারণেই মূলত ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বাড়ে। তাই ভবন ও আবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও দূষণ বন্ধ করে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান, ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০

আমার বিশ্বাস হয় না চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে: ট্রাম্প

১৩ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়তে প্রতিটি পরিবারের সচেতনতা জরুরি: রাষ্ট্রপতি

আপডেটের সময় : ১২:৩১:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দুর্যোগপরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে আগাম সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিটি ঘরকেই দুর্যোগ মোকাবিলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। দুর্যোগের প্রথম আঘাত যেহেতু পরিবার ও বাসাবাড়ির ওপর আসে, তাই দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতার বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব। সম্প্রতি নেপালে হিমবাহধসে হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি দেশের জীবন-জীবিকা কতটা তছনছ করে দিতে পারে, তা নেপালের ঘটনাই প্রমাণ করে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধি এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে বাংলাদেশের ভূমিকা একেবারেই নগণ্য হলেও এর সবচেয়ে বড় শিকার হতে হচ্ছে এ দেশের মানুষকে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের এক বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অনেক বাড়লেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সম্মুখসারির যোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নেই। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অব্যবস্থাপনার কারণেই মূলত ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বাড়ে। তাই ভবন ও আবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও দূষণ বন্ধ করে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card