নিউইয়র্ক ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গণপূর্ত মন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৫:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় পদায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী ও অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে এ পদ্ধতিতে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, মানবিক কারণে কারও বিশেষ প্রয়োজন থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। কাউকে হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং সবাই যাতে সমান সুযোগ পান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি মানবিক ও স্বচ্ছ থাকে, সেটিই লক্ষ্য।

এবার নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন ধরন ও শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনের মধ্যেও লটারি হতে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় বসানোই আমাদের লক্ষ্য।’

বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত বিভাগকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে চান তারা।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ে কাজ চলছে। এরপর রাজউক নিয়েও কাজ করা হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর জমি-জমা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে একটি ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদের মধ্যেই যতটা সম্ভব ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সরকারের কোথায় কী পরিমাণ জমি রয়েছে, কোনগুলো দখলে এবং কোনগুলো দখলের বাইরে রয়েছে—সব তথ্য চিহ্নিত করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কে আবাসন পাচ্ছেন, কে পাচ্ছেন না—এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি চালু করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের অধীনে একটি বিভাগ পরিচালিত হয়। তাই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের চাকরির অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পদায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লটারির আওতায় ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী থাকছেন জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, সব বিভাগের মধ্যেই এ কার্যক্রম হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মতো তিন-চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আপাতত এ কার্যক্রমের বাইরে রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় এ কার্যক্রম চালানো হবে। অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো সমঝোতা করা হবে না; শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের যেসব জমি দখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে। সরকারের মোট জমির তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে এবং ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি করা হচ্ছে। কোন জমি সরকারের, কোনটি সরকারের দখলে এবং কোনটি দখলের বাইরে—এসব চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান, ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০

আমার বিশ্বাস হয় না চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে: ট্রাম্প

১৩ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গণপূর্ত মন্ত্রী

আপডেটের সময় : ১২:৩৫:১৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় পদায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী ও অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে এ পদ্ধতিতে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, মানবিক কারণে কারও বিশেষ প্রয়োজন থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। কাউকে হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং সবাই যাতে সমান সুযোগ পান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি মানবিক ও স্বচ্ছ থাকে, সেটিই লক্ষ্য।

এবার নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন ধরন ও শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনের মধ্যেও লটারি হতে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় বসানোই আমাদের লক্ষ্য।’

বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত বিভাগকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে চান তারা।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ে কাজ চলছে। এরপর রাজউক নিয়েও কাজ করা হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর জমি-জমা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে একটি ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদের মধ্যেই যতটা সম্ভব ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সরকারের কোথায় কী পরিমাণ জমি রয়েছে, কোনগুলো দখলে এবং কোনগুলো দখলের বাইরে রয়েছে—সব তথ্য চিহ্নিত করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কে আবাসন পাচ্ছেন, কে পাচ্ছেন না—এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি চালু করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের অধীনে একটি বিভাগ পরিচালিত হয়। তাই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের চাকরির অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পদায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লটারির আওতায় ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী থাকছেন জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, সব বিভাগের মধ্যেই এ কার্যক্রম হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মতো তিন-চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আপাতত এ কার্যক্রমের বাইরে রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় এ কার্যক্রম চালানো হবে। অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো সমঝোতা করা হবে না; শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের যেসব জমি দখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে। সরকারের মোট জমির তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে এবং ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি করা হচ্ছে। কোন জমি সরকারের, কোনটি সরকারের দখলে এবং কোনটি দখলের বাইরে—এসব চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card