নিউইয়র্ক ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজডুবি, নতুন কৌশলে ইরান

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৭:৩১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে প্রণালিটির আশপাশে একাধিক জাহাজডুবি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জাহাজে হামলার পাশাপাশি নৌপথটিতে ইরানের কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করায় ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাঙ্কারটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল।

তবে জাহাজটিতে কীভাবে আগুন লেগেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি। এ ঘটনায় কারা দায়ী, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী এবং ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে ইরানের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে তেহরান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্য থাকতে পারে বলে ওই খবরে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বিপ্লবের পর গত ৪৮ বছরে আমরা এখনকার মতো তীব্র অবরোধ, যুদ্ধ ও সংকটের মুখে কখনও পড়িনি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ইরানিদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটন, যাতে দেশটিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে, ‘মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলা ও তাদের দুর্ভোগ বাড়ানো, এরপর সামাজিক বিক্ষোভ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারে।’

জাহাজডুবির ঘটনা বাড়ছে
হরমুজ প্রণালির কাছে গত মঙ্গলবার দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সামুদ্রিক নৌপথের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পৃথক ঘটনায় জাহাজ দুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার মতো প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। বুধবারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ দুটি ডুবে যায় বলে তাদের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগের ১০ দিনেও ওই নৌপথের আশপাশে হামলার ঘটনা বেড়েছিল।

ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোর একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’। ছোট আকারের এই কনটেইনার জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অন্য জাহাজটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ ডাও’। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটিতে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় একজন ক্রু নিহত হন। অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ডুবে যায়।

কেপ ডাওয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবরের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএমওর সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নৌপথটিতে জাহাজডুবির ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হচ্ছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, জিএফএস প্রাইড ও কেপ ডাও যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজডুবির ঘটনা। ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘পাক-আমেরিকা যুদ্ধ হলে আমরা পাকিস্তানের পাশে থাকব’

মুম্বাইয়ের রাস্তা থেকে জাতীয় দল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পুনম রাউত

১৬ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজডুবি, নতুন কৌশলে ইরান

আপডেটের সময় : ১২:৩৭:৩১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে প্রণালিটির আশপাশে একাধিক জাহাজডুবি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জাহাজে হামলার পাশাপাশি নৌপথটিতে ইরানের কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করায় ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাঙ্কারটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল।

তবে জাহাজটিতে কীভাবে আগুন লেগেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি। এ ঘটনায় কারা দায়ী, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী এবং ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে ইরানের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে তেহরান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্য থাকতে পারে বলে ওই খবরে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বিপ্লবের পর গত ৪৮ বছরে আমরা এখনকার মতো তীব্র অবরোধ, যুদ্ধ ও সংকটের মুখে কখনও পড়িনি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ইরানিদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটন, যাতে দেশটিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে, ‘মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলা ও তাদের দুর্ভোগ বাড়ানো, এরপর সামাজিক বিক্ষোভ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারে।’

জাহাজডুবির ঘটনা বাড়ছে
হরমুজ প্রণালির কাছে গত মঙ্গলবার দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সামুদ্রিক নৌপথের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পৃথক ঘটনায় জাহাজ দুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার মতো প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। বুধবারের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ দুটি ডুবে যায় বলে তাদের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগের ১০ দিনেও ওই নৌপথের আশপাশে হামলার ঘটনা বেড়েছিল।

ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোর একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’। ছোট আকারের এই কনটেইনার জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অন্য জাহাজটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ ডাও’। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটিতে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় একজন ক্রু নিহত হন। অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ডুবে যায়।

কেপ ডাওয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবরের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএমওর সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নৌপথটিতে জাহাজডুবির ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হচ্ছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, জিএফএস প্রাইড ও কেপ ডাও যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজডুবির ঘটনা। ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card