নিউইয়র্ক ০৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি

  • আপডেটের সময় : ০৬:৫১:২৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে অবৈধ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার (৬ জুলাই)  প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যে আপিল বেঞ্চ এ শুনানি হয়েছে। এদিন শুনানিতে অংশ নিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও শিশির মনির।

শুনানি শেষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এর সঙ্গে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা জড়িত। আমি বারবার বলেছি যে, পঞ্চদশ সংশোধনী শুধুমাত্র একটি সংশোধনী ছিল না, এটি সংবিধানকে পুনর্লিখন করার মতো একটি বিষয় ছিল, যার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই, আদালত কর্তৃক এ সংশোধনীটি বাতিল করা প্রয়োজন ছিল। যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী কোনো সংবিধান সংশোধনী আর না হয়। সংসদ যেন সংশোধনীর বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি জুলাইয়ের মধ্যেই এর শুনানি শেষ হবে এবং আপিল বিভাগ থেকে একটি চূড়ান্ত রায় পাওয়া যাবে। আগের রায়টি হাইকোর্ট বিভাগের ছিল, তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে এ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রয়োজন ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার শুনানি শেষ করব। তবে সরকারসহ আরও অনেক পক্ষ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর একটি পৃথক আপিল আছে এবং একজন আইনজীবীর করা আরেকটি পৃথক আপিল আছে। এ তিনটি আপিল একসঙ্গে শুনানি হচ্ছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান যে বেঞ্চ আছে, তার একজন বিচারপতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অবসরে যাবেন। তাই তার মধ্যেই শুনানি শেষ করে রায় দেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। তা না হলে আংশিক শুনানি হয়ে রায় হবে না, যা আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এরপর আপিল শুনানি শুরু হয়।

পৃথক দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেও আপিল করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করা হয়েছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাশ হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে গত বছর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দেশের জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে: প্রধানমন্ত্রী

০৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি

আপডেটের সময় : ০৬:৫১:২৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে অবৈধ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার (৬ জুলাই)  প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যে আপিল বেঞ্চ এ শুনানি হয়েছে। এদিন শুনানিতে অংশ নিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও শিশির মনির।

শুনানি শেষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এর সঙ্গে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা জড়িত। আমি বারবার বলেছি যে, পঞ্চদশ সংশোধনী শুধুমাত্র একটি সংশোধনী ছিল না, এটি সংবিধানকে পুনর্লিখন করার মতো একটি বিষয় ছিল, যার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই, আদালত কর্তৃক এ সংশোধনীটি বাতিল করা প্রয়োজন ছিল। যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী কোনো সংবিধান সংশোধনী আর না হয়। সংসদ যেন সংশোধনীর বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি জুলাইয়ের মধ্যেই এর শুনানি শেষ হবে এবং আপিল বিভাগ থেকে একটি চূড়ান্ত রায় পাওয়া যাবে। আগের রায়টি হাইকোর্ট বিভাগের ছিল, তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে এ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রয়োজন ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার শুনানি শেষ করব। তবে সরকারসহ আরও অনেক পক্ষ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর একটি পৃথক আপিল আছে এবং একজন আইনজীবীর করা আরেকটি পৃথক আপিল আছে। এ তিনটি আপিল একসঙ্গে শুনানি হচ্ছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান যে বেঞ্চ আছে, তার একজন বিচারপতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অবসরে যাবেন। তাই তার মধ্যেই শুনানি শেষ করে রায় দেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। তা না হলে আংশিক শুনানি হয়ে রায় হবে না, যা আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এরপর আপিল শুনানি শুরু হয়।

পৃথক দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেও আপিল করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করা হয়েছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাশ হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে গত বছর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

Share this news as a Photo Card