নিউইয়র্ক ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডায় সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বহু হতাহতের শঙ্কা

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৬:৫৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ দুইজন নিহত ও আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বা আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাকগুইন্টি জানান, কানাডীয় সশস্ত্র বাহিনী স্থানীয় জরুরি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কানাডীয় সামরিক ঘাঁটিতে এমন বড় ধরনের ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, একটি গুরুতর ঘটনায় সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই সব সাহসী নারী ও পুরুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

যেখানে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেই ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’ দেশটির অন্যতম ব্যস্ততম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে নিয়মিত সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহারের মহড়া ও প্রশিক্ষণ চলে। স্বাভাবিক সময়ে এই ঘাঁটিতে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী নিয়োজিত থাকেন।

ওয়েনরাইট মিউনিসিপ্যাল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র বাতাসের কারণে আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা সীমানা ছাড়িয়ে বাইরের লোকালয়ে চলে আসে। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কর্তৃপক্ষ প্রথম এ দুর্যোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করে।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ঘটনাটি প্রদেশের সাহসী সামরিক সদস্যদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতে প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

এদিকে উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবাদানকারী গাড়ির চলাচলের সুবিধার্থে পথ উন্মুক্ত রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

টাকার বিনিময়ে টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় করছেন চীনের পর্যটকেরা

স্ত্রী ও নিজেকে শেষ করার আগে বাবা ও বাড়িওয়ালার নাম্বার অফিসে মেইল করেন আসলাম

১৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কানাডায় সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বহু হতাহতের শঙ্কা

আপডেটের সময় : ০১:৩৬:৫৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ দুইজন নিহত ও আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বা আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাকগুইন্টি জানান, কানাডীয় সশস্ত্র বাহিনী স্থানীয় জরুরি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কানাডীয় সামরিক ঘাঁটিতে এমন বড় ধরনের ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, একটি গুরুতর ঘটনায় সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই সব সাহসী নারী ও পুরুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

যেখানে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেই ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’ দেশটির অন্যতম ব্যস্ততম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে নিয়মিত সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহারের মহড়া ও প্রশিক্ষণ চলে। স্বাভাবিক সময়ে এই ঘাঁটিতে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী নিয়োজিত থাকেন।

ওয়েনরাইট মিউনিসিপ্যাল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র বাতাসের কারণে আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা সীমানা ছাড়িয়ে বাইরের লোকালয়ে চলে আসে। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কর্তৃপক্ষ প্রথম এ দুর্যোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করে।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ঘটনাটি প্রদেশের সাহসী সামরিক সদস্যদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতে প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

এদিকে উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবাদানকারী গাড়ির চলাচলের সুবিধার্থে পথ উন্মুক্ত রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card