নিউইয়র্ক ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়িকে ভালোবাসি, ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যায় ভ্যান্স

  • আপডেটের সময় : ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। নিজের মন্তব্যের ভাষা পুরোপুরি যথাযথ না-ও হতে পারে বলে স্বীকার করার পাশাপাশি তিনি অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ সময় নিজের ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রসঙ্গ টেনে ভ্যান্স বলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখা বিদেশি কর্মীদের সম্মান জানানো এবং তাদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ভ্যান্স বলেন, তার শ্বশুর-শাশুড়ি দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছেন। তাদের মেয়ে, অর্থাৎ ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গর্বিত এবং তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে। স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থায়ী শ্রম সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনে সহায়তা করতে পারে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান।

কর্মসূচি থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থগিত করার প্রসঙ্গে ভ্যান্স মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। সে সময় তিনি বলেন, যেসব কাজ করতে মার্কিন নাগরিকেরা আগ্রহী, সেসব পদের জন্য বিদেশ থেকে ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ আনা বন্ধ করা উচিত।

কর্মী নিয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ ভ্যান্সের

নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভ্যান্স একটি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, কোনো বড় প্রতিষ্ঠান যদি নতুন হিসাবরক্ষক নিয়োগের সময় দাবি করে যে বর্তমান কর্মীদের মধ্যে উপযুক্ত কেউ নেই, অথচ একই সময়ে আগে থেকে বেতন পাওয়া একজন হিসাবরক্ষককে চাকরিচ্যুত করে, তাহলে সেই আচরণ ন্যায্য হতে পারে না।

ভ্যান্সের মতে, এ ধরনের নিয়োগনীতি বিদেশি কর্মী ও মার্কিন নাগরিক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তাই বিদেশি পেশাজীবীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের স্বার্থও রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য থাকা জরুরি।

ভ্যান্সের মন্তব্যের প্রতিবাদ ভারতের

ভ্যান্সের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ। দেশটির অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করা যথাযথ নয় বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া টিসিএস ও ইনফোসিসের মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড-সংক্রান্ত আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। দেশটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

টাকার বিনিময়ে টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় করছেন চীনের পর্যটকেরা

স্ত্রী ও নিজেকে শেষ করার আগে বাবা ও বাড়িওয়ালার নাম্বার অফিসে মেইল করেন আসলাম

১৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়িকে ভালোবাসি, ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যায় ভ্যান্স

আপডেটের সময় : ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। নিজের মন্তব্যের ভাষা পুরোপুরি যথাযথ না-ও হতে পারে বলে স্বীকার করার পাশাপাশি তিনি অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ সময় নিজের ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রসঙ্গ টেনে ভ্যান্স বলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখা বিদেশি কর্মীদের সম্মান জানানো এবং তাদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ভ্যান্স বলেন, তার শ্বশুর-শাশুড়ি দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছেন। তাদের মেয়ে, অর্থাৎ ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গর্বিত এবং তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে। স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থায়ী শ্রম সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনে সহায়তা করতে পারে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান।

কর্মসূচি থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থগিত করার প্রসঙ্গে ভ্যান্স মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। সে সময় তিনি বলেন, যেসব কাজ করতে মার্কিন নাগরিকেরা আগ্রহী, সেসব পদের জন্য বিদেশ থেকে ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ আনা বন্ধ করা উচিত।

কর্মী নিয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ ভ্যান্সের

নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভ্যান্স একটি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, কোনো বড় প্রতিষ্ঠান যদি নতুন হিসাবরক্ষক নিয়োগের সময় দাবি করে যে বর্তমান কর্মীদের মধ্যে উপযুক্ত কেউ নেই, অথচ একই সময়ে আগে থেকে বেতন পাওয়া একজন হিসাবরক্ষককে চাকরিচ্যুত করে, তাহলে সেই আচরণ ন্যায্য হতে পারে না।

ভ্যান্সের মতে, এ ধরনের নিয়োগনীতি বিদেশি কর্মী ও মার্কিন নাগরিক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তাই বিদেশি পেশাজীবীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের স্বার্থও রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য থাকা জরুরি।

ভ্যান্সের মন্তব্যের প্রতিবাদ ভারতের

ভ্যান্সের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ। দেশটির অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করা যথাযথ নয় বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া টিসিএস ও ইনফোসিসের মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড-সংক্রান্ত আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। দেশটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Share this news as a Photo Card