নিউইয়র্ক ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি ৫২ হাজার পরিবার

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪০:৩০ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ২০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। আর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।

এছাড়া পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৭টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে তিন জন, বান্দরবানে সাত জন, কক্সবাজারে ৩২ জন, যার মধ্যে স্থানীয় ১৯ জন ও রোহিঙ্গা ১৩ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে এক জন রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৪০ জন। দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৮৪৯ জন আশ্রয় নিয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে গতকাল ১৬ জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৭৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, খাগড়াছড়ির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙ্গামাটির জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানের জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং যশোর জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ অনুদান, অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং হাজার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি ৫২ হাজার পরিবার

আপডেটের সময় : ০৪:৪০:৩০ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। আর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।

এছাড়া পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৭টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে তিন জন, বান্দরবানে সাত জন, কক্সবাজারে ৩২ জন, যার মধ্যে স্থানীয় ১৯ জন ও রোহিঙ্গা ১৩ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে এক জন রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৪০ জন। দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৮৪৯ জন আশ্রয় নিয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে গতকাল ১৬ জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৭৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, খাগড়াছড়ির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙ্গামাটির জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানের জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং যশোর জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ অনুদান, অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং হাজার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card