নিউইয়র্ক ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮০ দফা চিঠিতেও হয়নি নিলাম, হাজার কোটি টাকার পণ্য আটকা কনটেইনারে

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩৩:২৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যবোঝাই কয়েক হাজার কনটেইনার নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটেনি। প্রায় ১৫ বছর আগে থেকেই এসব পণ্য নিলামে বিক্রির জন্য ৮০ দফা চিঠি দেওয়া হলেও নানা জটিলতায় কনটেইনারেই নষ্ট হচ্ছে অনেক পণ্য। 

জানা যায়, এতে বিদেশি শিপিং লাইনের কনটেইনার দীর্ঘদিন আটকে থাকায় তারা যেমন ক্ষতির মুখে পড়ছে। একইসঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রতি মাসে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করে। বিডারদের উপস্থিতিতে মাইকিং করে এই নিলাম পরিচালনা করা হয়। 

নিলামে কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদাসহ বিভিন্ন পচনশীল পণ্য থাকে। এছাড়া কিছু কনটেইনারের পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়।

তবে বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন শেডে নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৭৪৮টি ২০ ফুট এবং ৬ হাজার ৬১৮টি ৪০ ফুট কনটেইনার। এসব কনটেইনারের পণ্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা সব সময় নিলামযোগ্য কনটেইনার দখল করে থাকে। এগুলো সরানো গেলে নতুন আমদানি-রফতানি পণ্য রাখার জন্য বড় পরিসরের জায়গা তৈরি হবে।
 
অপরদিকে কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, ২ হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার নিলামের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনুমোদন মিলেছে ১ হাজার ৬১৯টির। এছাড়া গত বছর ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলাম শেষে বিডারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় বছরে মোট ৯৮৮টি কনটেইনার খালাস হলেও এর মধ্যে নিলামের তালিকায় নতুন করে আরও কয়েকশ’ কনটেইনার যুক্ত হয়েছে।
 
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নিলাম একটি নির্দিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাই প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগলেও সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করার চেষ্টা চলছে।
 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৮০ দফা চিঠিতেও হয়নি নিলাম, হাজার কোটি টাকার পণ্য আটকা কনটেইনারে

আপডেটের সময় : ০৬:৩৩:২৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যবোঝাই কয়েক হাজার কনটেইনার নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটেনি। প্রায় ১৫ বছর আগে থেকেই এসব পণ্য নিলামে বিক্রির জন্য ৮০ দফা চিঠি দেওয়া হলেও নানা জটিলতায় কনটেইনারেই নষ্ট হচ্ছে অনেক পণ্য। 

জানা যায়, এতে বিদেশি শিপিং লাইনের কনটেইনার দীর্ঘদিন আটকে থাকায় তারা যেমন ক্ষতির মুখে পড়ছে। একইসঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রতি মাসে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করে। বিডারদের উপস্থিতিতে মাইকিং করে এই নিলাম পরিচালনা করা হয়। 

নিলামে কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদাসহ বিভিন্ন পচনশীল পণ্য থাকে। এছাড়া কিছু কনটেইনারের পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়।

তবে বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন শেডে নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৭৪৮টি ২০ ফুট এবং ৬ হাজার ৬১৮টি ৪০ ফুট কনটেইনার। এসব কনটেইনারের পণ্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা সব সময় নিলামযোগ্য কনটেইনার দখল করে থাকে। এগুলো সরানো গেলে নতুন আমদানি-রফতানি পণ্য রাখার জন্য বড় পরিসরের জায়গা তৈরি হবে।
 
অপরদিকে কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, ২ হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার নিলামের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনুমোদন মিলেছে ১ হাজার ৬১৯টির। এছাড়া গত বছর ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলাম শেষে বিডারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় বছরে মোট ৯৮৮টি কনটেইনার খালাস হলেও এর মধ্যে নিলামের তালিকায় নতুন করে আরও কয়েকশ’ কনটেইনার যুক্ত হয়েছে।
 
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নিলাম একটি নির্দিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাই প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগলেও সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করার চেষ্টা চলছে।
 

Share this news as a Photo Card