নিউইয়র্ক ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগারের নিরাপত্তা ঢেলে সাজাতে বসছে এআই ক্যামেরা

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩০:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরায় প্রকাশ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’কে হত্যার ঘটনা এবং কারাগার থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ। তবে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলে বসেই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী তার এই ‘কিলিং মিশন’-এর পরিকল্পনা করে। শেষ পর্যন্ত রামপুরায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

কারাগারের অন্ধকার থেকে এমন সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা হচ্ছে হর-হামেশাই। কেউ কেউ কারাগারে বসেই মোবাইলে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি দখলদারিত্ব, এলাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ। এখানেই শেষ নয়, হাজত থেকে আদালতে যাওয়ার সময়ও পুলিশকে হাত করে বন্দীরা থামেন বিভিন্ন জায়গায়। আর জেলের ভেতর মাদকের ছড়াছড়ি বহু পুরনো ঘটনা। এসব রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এআই প্রযুক্তি সংবলিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কাজ চলমান রয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, আগে ঘটনা ঘটার পর আমরা খতিয়ে দেখতাম কী হয়েছিল এবং কে দায়ী অথবা ঘটনা কী হয়েছিল, এটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম, এখন কিন্তু ঘটনা ঘটার আগেই ওয়ার্নিং পাওয়ার ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখছি এবং ঘটনাগুলোকে প্রতিরোধ করতে পারছি। 

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয় এখন এআই ক্যামেরা কারাগারের ভেতরে মাদক অস্ত্র বা নিষিদ্ধ কোনো পণ্য নিয়ে চলাচল করলেই তা শনাক্ত করে সাথে সাথেই জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে। কোনো বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে বেজে উঠবে এলার্ম। আসামিদের কেউ কেউ অপরাধের পরিকল্পনা করলে নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে তা বুঝতে পেরে সতর্ক করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কারাগারের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার ঠেকানোর জন্য বসানো হয়েছে জ্যামার।

শুধু কয়েদি বা বন্দি নয়, দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপরও নজর রাখবে এই এআই ব্যবস্থা। কোনো ডিউটিরত নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে অলস বসে থাকলে বা ঘুমিয়ে পড়লে সেই তথ্য সরাসরি সদর দফতরে পৌঁছে যাবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কারাগারের নিরাপত্তা ঢেলে সাজাতে বসছে এআই ক্যামেরা

আপডেটের সময় : ০৬:৩০:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর রামপুরায় প্রকাশ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’কে হত্যার ঘটনা এবং কারাগার থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ। তবে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলে বসেই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী তার এই ‘কিলিং মিশন’-এর পরিকল্পনা করে। শেষ পর্যন্ত রামপুরায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

কারাগারের অন্ধকার থেকে এমন সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা হচ্ছে হর-হামেশাই। কেউ কেউ কারাগারে বসেই মোবাইলে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি দখলদারিত্ব, এলাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ। এখানেই শেষ নয়, হাজত থেকে আদালতে যাওয়ার সময়ও পুলিশকে হাত করে বন্দীরা থামেন বিভিন্ন জায়গায়। আর জেলের ভেতর মাদকের ছড়াছড়ি বহু পুরনো ঘটনা। এসব রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এআই প্রযুক্তি সংবলিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কাজ চলমান রয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, আগে ঘটনা ঘটার পর আমরা খতিয়ে দেখতাম কী হয়েছিল এবং কে দায়ী অথবা ঘটনা কী হয়েছিল, এটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম, এখন কিন্তু ঘটনা ঘটার আগেই ওয়ার্নিং পাওয়ার ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখছি এবং ঘটনাগুলোকে প্রতিরোধ করতে পারছি। 

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয় এখন এআই ক্যামেরা কারাগারের ভেতরে মাদক অস্ত্র বা নিষিদ্ধ কোনো পণ্য নিয়ে চলাচল করলেই তা শনাক্ত করে সাথে সাথেই জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে। কোনো বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে বেজে উঠবে এলার্ম। আসামিদের কেউ কেউ অপরাধের পরিকল্পনা করলে নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে তা বুঝতে পেরে সতর্ক করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কারাগারের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার ঠেকানোর জন্য বসানো হয়েছে জ্যামার।

শুধু কয়েদি বা বন্দি নয়, দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপরও নজর রাখবে এই এআই ব্যবস্থা। কোনো ডিউটিরত নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে অলস বসে থাকলে বা ঘুমিয়ে পড়লে সেই তথ্য সরাসরি সদর দফতরে পৌঁছে যাবে।

Share this news as a Photo Card