নিউইয়র্ক ০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই আমি দায় নিয়েছি: ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • আপডেটের সময় : ০৮:৪১:৪৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত খোলা চিঠি লিখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। টানা কয়েকদিনের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে চিঠিতে তিনি বললেন, নীট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই এর দায় নিয়েছেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নেননি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া খোলা চিঠিতে তিনি এ কথা বলেন।

চিঠিতে তিনি লেখেন, গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের জন্য নিবেদিত ছিলেন। আমার সবসময় এই বিশ্বাস ছিল যে, একটি শক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থাই সশক্ত রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম সামনে আসে। ভারত সরকার এই বিষয়টি তৎক্ষণাৎ আমলে নিয়ে, তদন্তের ভার সিবিআই-কে সঁপে দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। এর পাশাপাশি আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সিবিটি (কম্পিউটার বেসড টেস্ট) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এই সময়ে আমাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল, ২০ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এর জন্য সর্বাত্মক সরকারি প্রয়াস-এর আওতায় কাজ করা হয়েছে। এতে ভারত সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার, বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ২১ জুন এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নেইনি। আমার সংকল্প ছিল, কোনো মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সম্ভাবনা পরীক্ষা-মাফিয়ার কারণে নষ্ট হতে দেব না, কোনো ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না। ফলস্বরূপ, ১৬ জুলাই ঘোষিত নীট-ইউজি-র ফলাফল সন্তোষজনক হয়েছে, যেখানে দরিদ্র পরিবার থেকে আসা বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীও সাফল্য পেয়েছে।

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, এই সময়েও অনেক ছাত্রছাত্রীকে বিভ্রান্ত করার জন্য দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, যা আমার মনকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। আমি সবসময়ই আমাদের গণতন্ত্রের শক্তিতে অটুট বিশ্বাস রেখে এসেছি এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখি। তারা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নন, বরং একটি নতুন ও উন্নত ভারতের বাহক, নির্মাতা এবং ভবিষ্যতের শিল্পকারও বটে।

ধর্মেন্দ্র বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন ব্যথিত। ভারতের যুবশক্তিই এই দেশের প্রকৃত শক্তি। দেশের যুবশক্তি যাতে বিভ্রান্তির চক্রব্যূহে না জড়ায়, এটাই আমার সংকল্প।

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, জন্তরমন্তরে এবং দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই পরিস্থিতির সুযোগ যেন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলো না নেয়, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একজন ছাত্রছাত্রীরও ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, আমাদের সন্তানেরা যেন নিজেদের সময় পড়াশোনায় ব্যয় করে, ক্যারিয়ার গড়ার দিকে মনোনিবেশ করে— এই বিষয়টি বিবেচনা করেই আমি আমার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

চিঠির শেষ দিকে তিনি লেখেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, বিশ্বাস ও নিরন্তর সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি, মন্ত্রিপরিষদের আমার সব সহকর্মী, মন্ত্রকের আধিকারিক ও কর্মচারীবৃন্দ এবং সেই সব ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই, যাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেশসেবা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমি এর প্রতি সবসময় নিবেদিত থাকবো।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফ্রান্স ও স্পেনে স্মরণকালের ভয়াবহ দাবানল, শহরের দিকে ছড়াচ্ছে আগুন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনার মানে হয় না: ককরোচ জনতা পার্টি

২৬ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই আমি দায় নিয়েছি: ধর্মেন্দ্র প্রধান

আপডেটের সময় : ০৮:৪১:৪৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

শেষ পর্যন্ত খোলা চিঠি লিখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। টানা কয়েকদিনের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে চিঠিতে তিনি বললেন, নীট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই এর দায় নিয়েছেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নেননি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া খোলা চিঠিতে তিনি এ কথা বলেন।

চিঠিতে তিনি লেখেন, গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের জন্য নিবেদিত ছিলেন। আমার সবসময় এই বিশ্বাস ছিল যে, একটি শক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থাই সশক্ত রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম সামনে আসে। ভারত সরকার এই বিষয়টি তৎক্ষণাৎ আমলে নিয়ে, তদন্তের ভার সিবিআই-কে সঁপে দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। এর পাশাপাশি আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সিবিটি (কম্পিউটার বেসড টেস্ট) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এই সময়ে আমাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল, ২০ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এর জন্য সর্বাত্মক সরকারি প্রয়াস-এর আওতায় কাজ করা হয়েছে। এতে ভারত সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার, বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ২১ জুন এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নেইনি। আমার সংকল্প ছিল, কোনো মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সম্ভাবনা পরীক্ষা-মাফিয়ার কারণে নষ্ট হতে দেব না, কোনো ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না। ফলস্বরূপ, ১৬ জুলাই ঘোষিত নীট-ইউজি-র ফলাফল সন্তোষজনক হয়েছে, যেখানে দরিদ্র পরিবার থেকে আসা বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীও সাফল্য পেয়েছে।

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, এই সময়েও অনেক ছাত্রছাত্রীকে বিভ্রান্ত করার জন্য দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, যা আমার মনকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। আমি সবসময়ই আমাদের গণতন্ত্রের শক্তিতে অটুট বিশ্বাস রেখে এসেছি এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখি। তারা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নন, বরং একটি নতুন ও উন্নত ভারতের বাহক, নির্মাতা এবং ভবিষ্যতের শিল্পকারও বটে।

ধর্মেন্দ্র বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন ব্যথিত। ভারতের যুবশক্তিই এই দেশের প্রকৃত শক্তি। দেশের যুবশক্তি যাতে বিভ্রান্তির চক্রব্যূহে না জড়ায়, এটাই আমার সংকল্প।

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, জন্তরমন্তরে এবং দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই পরিস্থিতির সুযোগ যেন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলো না নেয়, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একজন ছাত্রছাত্রীরও ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, আমাদের সন্তানেরা যেন নিজেদের সময় পড়াশোনায় ব্যয় করে, ক্যারিয়ার গড়ার দিকে মনোনিবেশ করে— এই বিষয়টি বিবেচনা করেই আমি আমার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

চিঠির শেষ দিকে তিনি লেখেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, বিশ্বাস ও নিরন্তর সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি, মন্ত্রিপরিষদের আমার সব সহকর্মী, মন্ত্রকের আধিকারিক ও কর্মচারীবৃন্দ এবং সেই সব ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই, যাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেশসেবা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমি এর প্রতি সবসময় নিবেদিত থাকবো।

Share this news as a Photo Card