নিউইয়র্ক ০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেরিয়ে আসছে এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও

  • আপডেটের সময় : ০৬:৪১:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নারীকাণ্ডে বিতর্কের জেরে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর তাকে নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। 

সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে আরেক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডর, লবি ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে একজন এমপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতার অভাব এখন শুধু ‘টক অব দ্য কন্ট্রি’ নয়, এমনকি শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সংসদ, সংবিধান ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। শুধু দলে নয়, ঘরে-বাইরে সর্বত্রই তিনি বিপদে থাকায় আপাতত আত্মগোপনে আছেন।

গাজী নজরুল ইসলাম এমপি এবং আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।

অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান।

বহিষ্কারের পর সামাজিক মাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের রিসিপশনে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে হোটেলের লবি, করিডর, লিফট ও সিঁড়িঘরে ওই নারীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, মরিয়াম বেগমের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তার বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়েছিলেন সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। আশ্বাস দিয়েছিলেন কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। মাসুমের কাজ ছিল শুধু দরপত্র জমা দেওয়া। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন গাজী নজরুল নিজেই। 

ওবায়দুর বলছিলেন, ‘মাসুম কন্ট্রাক্টরির কিছুই বুঝত না। দায়িত্ব দেয় আমাকে। আমিও এসবের কিছু বুঝি না। তারপরও খেজুরের ব্যবসা বন্ধ করে টেন্ডারের বিষয়টি দেখাশোনা করছিলাম।’ সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পে দরপত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার লোভে মরিয়ামের মা-বাবা সংসদ-সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেননি। গাড়িচালক সম্পর্কে মরিয়ামের মামা হন। গাজী নজরুল সম্পর্কে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহর খালু। সেই সুবাদে মরিয়াম এমপির নাতনি। ওবায়দুরকে তার বোনের স্বামী মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মরিয়ম বেগমকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বলা হতো সংসদে চাকরি দেওয়া হবে। আর বাবাকে

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ভারত: মোদি

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

২৬ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বেরিয়ে আসছে এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও

আপডেটের সময় : ০৬:৪১:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নারীকাণ্ডে বিতর্কের জেরে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর তাকে নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। 

সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে আরেক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডর, লবি ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে একজন এমপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতার অভাব এখন শুধু ‘টক অব দ্য কন্ট্রি’ নয়, এমনকি শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সংসদ, সংবিধান ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। শুধু দলে নয়, ঘরে-বাইরে সর্বত্রই তিনি বিপদে থাকায় আপাতত আত্মগোপনে আছেন।

গাজী নজরুল ইসলাম এমপি এবং আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।

অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান।

বহিষ্কারের পর সামাজিক মাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের রিসিপশনে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে হোটেলের লবি, করিডর, লিফট ও সিঁড়িঘরে ওই নারীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, মরিয়াম বেগমের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তার বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়েছিলেন সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। আশ্বাস দিয়েছিলেন কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। মাসুমের কাজ ছিল শুধু দরপত্র জমা দেওয়া। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন গাজী নজরুল নিজেই। 

ওবায়দুর বলছিলেন, ‘মাসুম কন্ট্রাক্টরির কিছুই বুঝত না। দায়িত্ব দেয় আমাকে। আমিও এসবের কিছু বুঝি না। তারপরও খেজুরের ব্যবসা বন্ধ করে টেন্ডারের বিষয়টি দেখাশোনা করছিলাম।’ সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পে দরপত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার লোভে মরিয়ামের মা-বাবা সংসদ-সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেননি। গাড়িচালক সম্পর্কে মরিয়ামের মামা হন। গাজী নজরুল সম্পর্কে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহর খালু। সেই সুবাদে মরিয়াম এমপির নাতনি। ওবায়দুরকে তার বোনের স্বামী মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মরিয়ম বেগমকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বলা হতো সংসদে চাকরি দেওয়া হবে। আর বাবাকে

Share this news as a Photo Card