নিউইয়র্ক ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেড়িবাঁধে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ, ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প

  • আপডেটের সময় : ০৬:২১:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধের পাকা সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে বাঁধের কোথাও ফাটল বা ধস দেখা দিলে ৪ লাখের বেশি মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের চারদিকই নদীবেষ্টিত।

বাঁধ এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে বাঁধের ভেতরে বালু নেওয়ার কাজ চলছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও অবৈধ পাইপ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ ফুটো করে ড্রেজারের মোটা পাইপ স্থাপনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে এক ধরনের টানাপোড়েন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেচ প্রকল্পের পাকা সড়ক নির্মাণ করেছে সওজ এবং বাঁধ নির্মাণ করেছে পাউবো। ফলে বাঁধ ফুটো করে স্থাপন করা পাইপ অপসারণের দায়িত্ব কোন সংস্থার—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে।

তবে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে রাস্তার ওপর দিয়ে স্থাপন করা ড্রেজারের পাইপ অপসারণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগের এক মাসেই প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি স্থানে এ ধরনের পাইপ অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মেঘনা নদী সংলগ্ন চরমাছুয়া ট্রলারঘাট থেকে সুগন্ধি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে অন্তত ১১টি স্থানে পাকা সড়ক ফুটো করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে।

এর মধ্যে চরমাছুয়া ট্রলারঘাট থেকে জনতা বাজার সংলগ্ন মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় পাঁচটি স্থানে বাঁধের পাকা রাস্তা ফুটো করে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে বলে দেখা যায়।

এ ছাড়া বালুচর মসজিদ সংলগ্ন, জনতা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত, মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ, মোহনপুরের মোহাম্মদপুর ঈদগাহ এলাকা, জাহাঙ্গীর মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা, শিকিরচর বটতলা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, উত্তর শিকিরচর এবং সুগন্ধি দোকানের পাশে পাইপ স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বহুবার এসব ড্রেজার পাইপ ভেঙে দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা পুনরায় এসব পাইপ স্থাপন করছে। আমরা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে এসব স্থানে স্থায়ীভাবে পাইপ বসানোর পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। স্থানীয়রা ড্রেজার মালিকদের পরিচয় না জানার কারনে অনেকসময় আইনি ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বেড়িবাঁধে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ, ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প

আপডেটের সময় : ০৬:২১:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধের পাকা সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে বাঁধের কোথাও ফাটল বা ধস দেখা দিলে ৪ লাখের বেশি মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের চারদিকই নদীবেষ্টিত।

বাঁধ এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে বাঁধের ভেতরে বালু নেওয়ার কাজ চলছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও অবৈধ পাইপ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ ফুটো করে ড্রেজারের মোটা পাইপ স্থাপনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে এক ধরনের টানাপোড়েন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেচ প্রকল্পের পাকা সড়ক নির্মাণ করেছে সওজ এবং বাঁধ নির্মাণ করেছে পাউবো। ফলে বাঁধ ফুটো করে স্থাপন করা পাইপ অপসারণের দায়িত্ব কোন সংস্থার—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে।

তবে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে রাস্তার ওপর দিয়ে স্থাপন করা ড্রেজারের পাইপ অপসারণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগের এক মাসেই প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি স্থানে এ ধরনের পাইপ অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মেঘনা নদী সংলগ্ন চরমাছুয়া ট্রলারঘাট থেকে সুগন্ধি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে অন্তত ১১টি স্থানে পাকা সড়ক ফুটো করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে।

এর মধ্যে চরমাছুয়া ট্রলারঘাট থেকে জনতা বাজার সংলগ্ন মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় পাঁচটি স্থানে বাঁধের পাকা রাস্তা ফুটো করে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে বলে দেখা যায়।

এ ছাড়া বালুচর মসজিদ সংলগ্ন, জনতা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত, মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ, মোহনপুরের মোহাম্মদপুর ঈদগাহ এলাকা, জাহাঙ্গীর মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা, শিকিরচর বটতলা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, উত্তর শিকিরচর এবং সুগন্ধি দোকানের পাশে পাইপ স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বহুবার এসব ড্রেজার পাইপ ভেঙে দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা পুনরায় এসব পাইপ স্থাপন করছে। আমরা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে এসব স্থানে স্থায়ীভাবে পাইপ বসানোর পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। স্থানীয়রা ড্রেজার মালিকদের পরিচয় না জানার কারনে অনেকসময় আইনি ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card