নিউইয়র্ক ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁচামাল সংকটে এস আলমের চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ, ছাঁটাই ৩৮৩ শ্রমিক

  • আপডেটের সময় : ০৬:১৯:২৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় ৩৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কারখানা সূত্র জানায়, কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছিল না। মজুত কাঁচামাল দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা-ও ফুরিয়ে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে প্রথম ধাপে ৮৬ জনকে ছাঁটাই করা হলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৮৩ জনকে ছাঁটাই করে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানার প্রজেক্ট ডিরেক্টর এবং প্রধান মানবসম্পদ ও প্রশাসন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

কারখানার কর্মচারী মনির আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না। শুনেছি, কাঁচামালের সংকট ও আর্থিক সমস্যার কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।

আরেক শ্রমিক নজরুল বলেন, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। একসঙ্গে এত শ্রমিককে বেকার করে দেওয়ায় বড় সংকটের মুখে পড়েছি।

এদিকে, শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা ও ব্যাংকিং সংকটের কথা উল্লেখ করে এস আলম গ্রুপ চিনি, ইস্পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

কারখানা বন্ধের বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি। তবে কাঁচামাল না থাকায় সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছিল না। মজুত কাঁচামাল দিয়েই এতদিন উৎপাদন চালানো হচ্ছিল।এ বিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের সাবেক ম্যানেজার বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজার ছাড়াল, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব

দায়িত্ব ছাড়লেন ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক উপদেষ্টা ক্লেভার-ক্যারন

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কাঁচামাল সংকটে এস আলমের চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ, ছাঁটাই ৩৮৩ শ্রমিক

আপডেটের সময় : ০৬:১৯:২৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় ৩৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কারখানা সূত্র জানায়, কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছিল না। মজুত কাঁচামাল দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা-ও ফুরিয়ে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে প্রথম ধাপে ৮৬ জনকে ছাঁটাই করা হলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৮৩ জনকে ছাঁটাই করে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানার প্রজেক্ট ডিরেক্টর এবং প্রধান মানবসম্পদ ও প্রশাসন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

কারখানার কর্মচারী মনির আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না। শুনেছি, কাঁচামালের সংকট ও আর্থিক সমস্যার কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।

আরেক শ্রমিক নজরুল বলেন, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। একসঙ্গে এত শ্রমিককে বেকার করে দেওয়ায় বড় সংকটের মুখে পড়েছি।

এদিকে, শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা ও ব্যাংকিং সংকটের কথা উল্লেখ করে এস আলম গ্রুপ চিনি, ইস্পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

কারখানা বন্ধের বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি। তবে কাঁচামাল না থাকায় সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হচ্ছিল না। মজুত কাঁচামাল দিয়েই এতদিন উৎপাদন চালানো হচ্ছিল।এ বিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের সাবেক ম্যানেজার বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Share this news as a Photo Card