নিউইয়র্ক ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জনগণের স্বার্থে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে’

  • আপডেটের সময় : ০৮:৪৫:৫০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। একদিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষণা করে ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’। অন্যদিকে দিনটিতেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।

সেদিন রাজধানীর সেনা সদরদপ্তরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে আছে ও থাকবে।”

রাজধানীসহ সারা দেশে চলমান বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় আন্দোলন ক্রমেই সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিচ্ছিল এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

একই দিন সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।”

তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ‘এক দফা’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা দাবির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। দফাটি হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ।”

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

৩ আগস্ট রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর আসে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার সেই দিনে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ছিল অন্যতম আলোচিত ঘটনা। জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকারের এই বার্তা দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেও তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘জনগণের স্বার্থে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে’

আপডেটের সময় : ০৮:৪৫:৫০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। একদিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষণা করে ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’। অন্যদিকে দিনটিতেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।

সেদিন রাজধানীর সেনা সদরদপ্তরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে আছে ও থাকবে।”

রাজধানীসহ সারা দেশে চলমান বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় আন্দোলন ক্রমেই সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিচ্ছিল এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

একই দিন সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।”

তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ‘এক দফা’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা দাবির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। দফাটি হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ।”

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

৩ আগস্ট রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর আসে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার সেই দিনে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ছিল অন্যতম আলোচিত ঘটনা। জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকারের এই বার্তা দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেও তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

Share this news as a Photo Card